প্রয়াত 'নাইটিঙ্গল অফ সাউথ ইন্ডিয়া' এস জানকী। বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। জানকী আম্মা নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। ভারতীয় সঙ্গীত জগতে প্রচুর অবদান তাঁর। শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁকে মইসুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বয়সজনিত কারণে এই সমস্যার সঙ্গে লড়ছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের খবর জানান নাতনি অপ্সরা ভাইদুলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগপ্রবণ বার্তা দেন তিনি।
ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত তাঁর কর্মজীবন। তামিল, তেলুগু, মালয়ালম, কন্নড় ও হিন্দি ভাষায় ২০,০০০-এরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন তিনি। যা তাঁকে দেশের অন্যতম সর্বাধিক গান গাওয়া প্লেব্যাক গায়িকায় পরিণত করেছে।
চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই শিল্পী ‘সেন্থুরা পুভে’, ‘মৌনামেলানোয়ি’, ‘ইঞ্জি ইদুপ্পাঝাগি’-র মতো কালজয়ী গান এবং হিন্দি হিট ‘ইয়ার বিনা চ্যান কাঁহা রে’ ও ‘বোল বেবি বোল রক এন রোল’-এ কণ্ঠ দিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান-গ্রহণ অস্স্বীকার করেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর কর্মজীবনের এই পর্যায়ে এসে এই সম্মান, অনেক দেরিতে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ ভারতের শিল্পীদের আরও বেশি স্বীকৃতি প্রদানের আহ্বান জানান।
এহেন কিংবদন্তী শিল্পীর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়ে অপ্সরা লিখেছেন, "পরিবারের ভালবাসায় ঘেরা অবস্থায় তিনি শান্তভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমাদের মন ভারাক্রান্ত হলেও, তাঁর অসাধারণ জীবন এবং কালজয়ী সঙ্গীতের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে তিনি যে অসীম আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছেন—তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ। বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন এক কিংবদন্তিতুল্য কণ্ঠস্বর, যাঁর গান অগণিত স্মৃতির অংশ হয়ে আছে।"
এস জানকী ১৯৩৮ সালের ২৩ এপ্রিল অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার পাল্লাপাটলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা শ্রীরামমূর্তি ছিলেন একজন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ও শিক্ষক। তাঁর শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে সিরসিল্লায়। সেখানেই মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি প্রথমবারের মতো মঞ্চে পরিবেশনার সুযোগ পান। শাস্ত্রীয় সংগীতে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না নিলেও, তিনি নাদস্বরম বাদক পাইডিস্বামীর কাছ থেকে এর প্রাথমিক বিষয়গুলো শিখেছিলেন।
