কলকাতা: ২৭ মার্চ থেকে শ্যুটিং চলছিল। ৩০-এ শ্যুটিং সেরে বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু সব শেষ, আর বাড়ি ফেরা হল না রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সোমবার দুপুরে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর, শববাহী গাড়ি রাহুলকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয়। রাহুলের গাড়িচালক ও ধারাবাহিকের সদস্যরা রাহুলের দেহ শেষ বারের মত নিয়ে আসেন তাঁর বিজয়গড়ের বাড়িতে। অভিনেতাকে দেখার জন্য মানুষের ঢল নামে তাঁর বাড়ির সামনে। 

Continues below advertisement

তালসারিতে উদয়ের মধ্যগগনে অরুণোদয়-এর এ ভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না একেবারে। শোকস্তব্ধ গোটা টলিপাড়া। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় রাহুলের সম্পর্কে জানান, ''যারা যারা তাঁকে চিনতেন, প্রত্যেকের ক্ষতি। সাধারণত এত ভাল মানুষ ইন্ডাস্ট্রিতে, তারপর শিক্ষিত। খুবই বিরল ব্যক্তিত্ব ছিল, আমাদের মনে থাকবে।''  

অভিনেত্রী উষসী চক্রবর্তী জানান, ''রাহুল আমার কাছে কেবলমাত্র একজন অভিনেতা ছিলেন না। উনি আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, মাঝে মাঝে কথা হতো। অভিনেতা হিসেবে উনাকে মূল্যায়ণ করার ধৃষ্টতা আমার নেই। কিন্তু আমরা এখন যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তাতে স্পষ্ট কথা, সত্যি কথা মেরুদণ্ড সোজা করে বলার লোক খুব বিরল হয়ে গেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে কোনও দিকে না তাকিয়ে, নিজের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে, উনি যেভাবে স্ট্যান্ড নিতেন, সেটা আমাকে খুব অনুপ্রেরণা দিত। আমি জানিনা এমন অনুপ্রেরণা আর কথা থেকে পাবো। 

Continues below advertisement

রাজ চক্রবর্তী জানান, '' ভাল লিখতে পারত, পড়াশোনা করত প্রচুর, ভাল নাটক করত। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হল, পরিবারের ক্ষতি হল। ওর একটি ছেলে আছে। আমি সবার কথা ভাবছি। সবার জন্যই একটা বড় ক্ষতি।''

অভিনেতা দেব বলেন, '' ওর সঙ্গে আমার, এটা বলব না যে, আমাদের খুব ভাল বন্ধুত্ব ছিল, কিন্তু একজন অভিনেতা হয়ে আমি ওকে খুব শ্রদ্ধা করি। আমি মনে করি, এই ধরণের একজন বেস্ট অ্যাক্টর টলিউডের মধ্যে ছিলেন। এটা আমার মনে হয়, বাংলা দর্শক ও বাংলা ইন্ড্রাস্ট্রির অনেক বড় ক্ষতি হল। খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলেন। ইশ্বর ওর আত্মাকে শান্তি দিক। ''