কলকাতা: ক্রমশই যেন গুরুতর হচ্ছে জুবিন গর্গ (Zubeen Garg) -এর মৃত্যু রহস্য। জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীর মৃত্যুর তদন্তে গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়ল। গ্রেফতার করা হল, শিল্পীর দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে। সুতরাং, এই মামলায়, এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭ জন। জানা যাচ্ছে, যে দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের নাম, নন্দেশ্বর বরা ও পরেশ বৈশ্য। জুবিনের মৃত্যুর সঙ্গে কিভাবে এই ২ ব্যক্তি যুক্ত, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে।

Continues below advertisement

জুবিন গর্গের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে গায়কের তুতো ভাই সন্দীপন গর্গকে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে জুবিনের ম্যানেজার আর জুবিন সিঙ্গাপুরে যে শো করতে গিয়েছিলেন, তার আয়োজককে। আর আজ, জুবিন গর্গের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার করা হল শিল্পীর দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে। ২০১৩ সালে, হিন্দি গান গাওয়ার জন্য খুনের হুমকি পেয়েছিলেন গায়ক। সেই সময়েই, গায়কের নিরাপত্তার জন্য বাড়তি ব্যবস্থা করা হয়। সেই সময়েই এই দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষীকে নিয়োগ করা হয়। সেই থেকেই গায়কের সঙ্গে রয়েছেন তাঁরা। 

জুবিন গর্গের মৃত্যুর তদন্তে নেমে, SIT-র হাতে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। জুবিনের মৃত্যুর আগে, ওই দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর অ্যাকাউন্টে ১ কোটিরও বেশি টাকা লেনদেন করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, একজনের অ্যাকাউন্টে ৭০ লক্ষ টাকা এবং অন্যজনের অ্যাকাউন্টে ৪০ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছিল জুবিনের মৃত্যুর আগে। এই লেনদেন সন্দেহজনক, কারণ এই টাকা ওই দুই দেহরক্ষীর বেতনের চেয়ে অনেক বেশি। এর ২ দিন আগে জুবিনের তুতো ভাই ও পুলিশ আধিকারিক সন্দীপন গর্গকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর আগে গ্রেফতার হয়েছেন গায়কের আপ্তসহায়ক সিদ্ধার্থ শর্মা, ব্যান্ডের সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী, ‘নর্থইস্ট ফেস্টিভ্যাল’-এর আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত ও সঙ্গীতশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্তকে।

Continues below advertisement

জুবিনের তুতো ভাই, সন্দীপন গর্গকে ১৪ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে চেয়েছিল পুলিশ। তবে আদালত তাঁকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজত দিয়েছে। ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে। এর আগে, জুবিনের স্ত্রী গরিমা বলেছিলেন, তিনি জানতে চান, শেষ মুহূর্তে তাঁর স্বামীর সঙ্গে ঠিক কী হয়েছে? কীভাবে মারা গেলেন জুবিন। শিল্পীর স্ত্রী গরিমা এ ও জানিয়েছেন, জুবিনের খিঁচুনির রোগ ছিল। সব জানার পরেও, কেউ কেন তাঁকে জলে নামা থেকে আটকালো না, সেই প্রশ্নেই থেকে যাচ্ছে গরিমার মনে।