আজকাল, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। উচ্চ রক্তচাপ প্রায়শই হঠাৎ করে হয় না, বরং কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসের কারণে ধীরে ধীরে লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। ঘুম, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত ছোট ছোট ভুলগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপ বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পাঁচটি এমন দৈনন্দিন অভ্যাস তুলে ধরেছেন যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ৭ ঘণ্টার কম ঘুম রক্তচাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের অভাব স্ট্রেস হরমোন বৃদ্ধি করে, রাতে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কমে না এবং কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়।
উপরন্তু, ক্রমাগত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসলের মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি রাখে। বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, বারবার চাপ সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে। এটি সারা দিনের গড় রক্তচাপ বৃদ্ধি করে, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
রাতে দেরি করে খেলে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম ব্যাহত হয়, যা কিডনিতে সোডিয়ামের ভারসাম্য, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। গবেষণা অনুসারে, সন্ধেয় বা রাতে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ রাতের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসারাল ফ্যাট বা পেটের চর্বি, রক্তচাপের সঙ্গে যুক্ত। কোমরের রেখা বৃদ্ধির ফলে হরমোনের পরিবর্তন, প্রদাহ এবং কিডনিতে সোডিয়াম ধরে রাখার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই কারণেই অনেক ক্ষেত্রে ওজনের চেয়ে কোমরের আকারকে রক্তচাপের একটি সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কফি বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় তাৎক্ষণিকভাবে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত বা দেরিতে ক্যাফেইন গ্রহণ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, মানসিক চাপ বাড়ায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করে। ক্যাফিনের উপর ক্রমাগত নির্ভরতা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
প্রসঙ্গত, অনেকেই রক্তচাপকে হাল্কাভাবে নেন। কিন্তু এটি একটি 'নীরব ঘাতক'। ভারতে লক্ষ লক্ষ মানুষ উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন এবং অনেকেই জানেন না যে তাঁদের রক্তচাপ বেশি। যদি সময়মতো শনাক্ত না করা যায় এবং চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ফেলিওর এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে।
ডিসক্লেইমার: লেখায় উল্লেখিত দাবি বা পদ্ধতি পরামর্শস্বরূপ। এটি মেনে চলার আগে অবশ্যই সরাসরি বিশেষজ্ঞ/চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।