আজকাল মানসিক চাপ এবং মানসিক অবসাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে মানুষ প্রায়শই হতাশ এবং মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করে। ক্রমাগত ক্লান্ত থাকে। এর কারণ তাদের অস্বাস্থ্যকর জীবনধারাও। এই ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে, ডাক্তাররা পূর্ণ ঘুমের পরামর্শ দেন। কিন্তু আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও অনেকেই সব সময় ক্লান্ত বোধ করেন। এই সমস্যাটি আরও বিভিন্ন কারণে হতে পারে। আসুন এর পিছনের প্রধান কারণগুলি অনুসন্ধান করি।
আয়রনের অভাবে হতে পারে ক্লান্তি -
আমরা সকলেই জানি যে, সুস্থ শরীরের জন্য সুষম খাদ্য অপরিহার্য। তাই, আমাদের সঠিক সময়ে খাওয়া উচিত এবং সঠিক পরিমাণে সমস্ত পুষ্টি গ্রহণ করা উচিত। যা সুস্থ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শক্তির মাত্রা বজায় রাখে। এই পরিস্থিতিতে, যখন আমাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়, তখন হিমোগ্লোবিন উৎপাদনও কমে যায়। এর ফলে শরীরের সমস্ত কোষে অক্সিজেন সরবরাহ কম হয় এবং আমরা ক্লান্ত বোধ করি।
ডিহাইড্রেশন থেকে হতে পারে সমস্যা-
যখন আমাদের শরীরের শক্তি শেষ হয়ে যায়, তখন আমরা ক্লান্ত বোধ করতে শুরু করি। ডিহাইড্রেশন এর একটি প্রধান কারণ। আসলে, রক্ত সঞ্চালন এবং শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের চলাচলের জন্য জল অপরিহার্য। এর অভাব ক্লান্তি এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সঠিক পরিমাণে জল পান করা উচিত।
স্ট্রেস থেকে ক্লান্ত হতে পারে শরীর-
ক্লান্তি এবং বিরক্তির সবচেয়ে বড় কারণ হল- স্ট্রেস। স্ট্রেস পরোক্ষভাবে আপনার সমগ্র শরীরের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। এর ফলে কেবল আপনার শরীরই নয়, আপনার মনও উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা অনুভব করে, যা আপনার শরীরকে হাই অ্যালার্টে রাখে। এতে ঘুম কম হয় এবং মানুষ সতেজ অনুভব করে না।
নীল আলোর রশ্মির খারাপ প্রভাব-
আজকাল, অধিকাংশই তাদের অফিসের ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করে। মোবাইল ফোন ব্যবহারও খুব সাধারণ হয়ে উঠেছে। এই ডিভাইসগুলি থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্ককে অস্থির করে তোলে। আলো মস্তিষ্কে সংকেত দেয় যে এখনও দিনের আলো আছে। এর ফলে মস্তিষ্ক মেলাটোনিন উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যা আমাদের সঠিক সময়ে ঘুমাতে বাধা দেয় এবং মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।
ডিসক্লেইমার: লেখায় উল্লেখিত দাবি বা পদ্ধতি পরামর্শস্বরূপ। এটি মেনে চলার আগে অবশ্যই সরাসরি বিশেষজ্ঞ/চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।