সর্দি, কাশি এবং ঠান্ডা লাগার সমস্যায় কে না ভোগে ! এ নিয়ে বড় একটা মাথা দেন না কেউই। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো, কতদিন ধরে কাশি চলছে আপনার? মনে রাখবেন, কাশি হওয়া মানেই কিন্তু তা সাধারণ সর্দির ফল নাও হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি কাশি ও তার সঙ্গে আরও কিছু উপসর্গ দেখা যেতে পারে। এই উপসর্গগুলোই বলে দেয়, কাশির আড়ালে লুকিয়ে নেই তো ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ?
কাশি সাধারণত সর্দিগর্মির সঙ্গে হয়। এছাড়াও অ্যালার্জি থেকেও কাশি হতে পারে। এছাড়া কোনও সংক্রমণ, এমনকী লিভারের সমস্যা থেকেও কাশি হতে পারে। এর সঙ্গে যদি বুকে, কাঁধে বা পিঠে ব্যথা অনুভব করেন তবে সতর্ক থাকুন। দীর্ঘমেয়াদি কাশি কেবল সাধারণ সমস্যা নয়। ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরের কোনও কোনও অংশে ব্যথা ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
কোথায় কোথায় ব্যথা হলে ক্যান্সারের লক্ষণ?
শরীরের কোনও কোনও অংশে ব্যথা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি অনুসারে, একটানা কাশি এবং বুকে ব্যথা ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পরে। অর্থাৎ, যদি আপনার কাশির সঙ্গে বুকে ব্যথাও হয়, তাহলে ফুসফুসের ডাক্তার দেখাতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO বলছে, ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণই হল দীর্ঘকাল ধরে না সারা কাশি, বুকে ব্যথা এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া।
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি বলছে, কাশির সঙ্গে এই লক্ষণগুলো দেখলেই সতর্ক হতে হবে।
- কাশি যদি না সারে বা সময়ের সঙ্গে খারাপ হতে থাকে
- কাশির সঙ্গে জোরে জোরে শ্বাস নেওয়া বা হাসতে গেল দম ফুরিয়ে যাওয়া
- রক্ত বা মরচে রঙের থুতু আসা
- বারবার ফুসফুসের সংক্রমণ
- কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস এবং ক্লান্তি
এই লক্ষণগুলি দেখলেই সতর্ক হতে হবে। তার মানেই ক্যান্সার এমনটাও নয়, তবে হলেও হতে পারে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক অনুসারে, কিছু ক্ষেত্রে ফুসফুসের উপরের অংশে যে প্যাঙ্কোস্ট টিউমার হয়, তার লক্ষণ কাশি ও কাঁধ, পিঠের উপরের দিক বা হাতে ব্যথা । এই ব্যথা রাতে আরও বাড়তে পারে এবং হাতে দুর্বলতা বা ঝনঝনানি হতে পারে। তাই কাশির সঙ্গে যদি ক্রমাগত কাঁধে বা পিঠে ব্যথা থাকে, তবে তাও পরীক্ষা করা জরুরি।
কোন কোন কাশি ক্যান্সারের ইঙ্গিত?
এখন সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল কীভাবে চিনবেন কোন কাশি ক্যান্সারের এবং কোনটি নয়। বেশিরভাগ কাশি সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। পার্থক্য হল ক্যান্সারের কাশি ৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য উপসর্গ যেমন রক্ত আসা, শ্বাসকষ্ট এবং ওজন হ্রাসও সঙ্গে নিয়ে আসে। আপনার যদি ৩ সপ্তাহ ধরে কাশির সমস্যা থাকে, তবে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করা উচিত।
Disclaimer: এই তথ্য গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের উপর ভিত্তি করে। এটিকে চিকিৎসা পরামর্শ হিসাবে বিবেচনা করবেন না। কোনো নতুন কার্যকলাপ বা ব্যায়াম শুরু করার আগে আপনার ডাক্তারের বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
