কলকাতা : কম বয়সীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বাড়ছে। এই নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। নানা গবেষণায় উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। হালে পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কম ঘুম, দেরি করে ঘুম,ঘুমের খারাপ মান ভয়ঙ্কর ক্ষতি করে দিতে পারে কিশোর বয়সেই। আর তার মাসুল দিতে হয় বয়স বাড়লেই।  অনিদ্রার জেরে ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে  কিশোর-কিশোরীদের। কম ঘুমের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ব্লাড প্রেসারের উপর। চাঞ্চল্যকর দাবি গবেষণায়। কিশোর বয়সেই উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায় অনিদ্রা বা কম ঘুম। 

 উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগে ঝুঁকি অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয়,  উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকেরও কারণ।  এই পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে ঘুমের সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের সঠিক ঘুমের সম্পর্ক।   প্রতি রাতে ৭-৮ ঘন্টার কম গুরুতর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে।  কম বয়সের এই অভ্যেস ভবিষ্যতে হৃদরোগজনিত নানা অসুস্থতা ডেকে আনতে পারে।  ঘুমের মান এবং সময় কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বিস্তারে বুঝিয়েছে গবেষণা।  

আমেরিকান একাডেমি অফ স্লিপ মেডিসিন অনুসারে , কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ জীবন যাপনের জন্য এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখাতে প্রতি রাতে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাইস্কুলের ছেলে মেয়েরা গড়ে মাত্র সাড়ে ৬ ঘন্টা ঘুমোতে পারে।   যা  দরকারের চেয়ে অনেক কম। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই ব্যাপক ঘুমের ঘাটতি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। পরবর্তীতে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। 

এছাড়া কম ঘুমের ফলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। অপর্যাপ্ত বিশ্রাম কার্যকরভাবে রোগজীবাণুগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হ্রাস করে। হঠাৎ-হঠাৎ মেজাজের পরিবর্তন এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা যায়। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ঘুমের অভাব মানসিক অস্থিরতার কারণ হয়। এছাড়া তাদের মধ্যে  খিটখিটে ভাব, উদ্বেগ দেখা যায়।  অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে কিশোর-কিশোরীদের স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি ঘটাতে পারে।  হরমোনের ভারসাম্যহীনতারকারণ হয়। পরবর্তী জীবনে উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ 2 ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। হৃদরোগ এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ভাল ঘুম অপরিহার্য।