কিডনি শরীর থেকে রেচন পদার্থ বের করে দেয়। তবে কিডনির কাজ আরও অনেক কিছু। শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মাত্রায় ভারসাম্য রাখে কিডনি। কিডনির ক্ষতি হচ্ছে, সেই ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সারা শরীরেই। চোখের অসুখ থেকে প্রস্রাবের সমস্যা,কিডনি খারাপ হওয়ার ফলাফল সুদূরপ্রসারী। তবে কিডনির ক্ষতি হচ্ছে, তার একটি ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়তে পারে পায়ে। মিরর-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে একটি গবেষণার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে কিডনির খারাপ হলে পায়ের একটি ভয়ঙ্কর পরিবর্তন আসতে পারে।
গবেষণায় উল্লেখ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত অনেকেই কিডনির সমস্যায় ভোগেন। শুধু মাত্র UKতেই ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ কিডনির অসুখে ভোগেন। কিডনির অসুখের অনেকগুলি পর্যায় রয়েছে। পঞ্চম পর্যায়ের দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের (CKD) আক্রান্ত বহু মানুষ। এই পর্যায়ে কিডনি ১৫ শতাংশেরও কম কাজ করে। এই পর্যায়ে রোগীদের একমাত্র বেঁচে থাকার উপায় হল ডায়ালিসিস করিয়ে যাওয়া, কোনও কোনও ক্ষেত্রে কিডনি প্রতিস্থাপন।
কিডনির অসুস্থতার অনেক লক্ষণের মধ্যে গুরুতর হল পায়ের আকৃতি পরিবর্তন। পায়ের নীচের অংশে বা পায়ে ফোলাভাব দেখা যায়। যাকে এডিমা বলা হয়। চোখের চারপাশেও এই ফোলাভাব দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কিডনি ভালোভাবে কাজ না করে, তাহলে শরীরের বিভিন্ন অংশ তরল জমে যেতে পারে। ঠিক এই কারণেই কিডনির রোগীর পা এবং গোড়ালি ফুলে যায়।
হৃদরোগ বা লিভারের রোগের জন্যও এই সমস্যা হত পারে। তাই নিশ্চিত হতে দরকার সঠিক পরীক্ষা। কিডনির সমস্যার আরও কতগুলি লক্ষণ শরীরে লক্ষণীয় হয়। যেমন -
- কিডনির সমস্যা বাড়লে ত্বকে চুলকানি হতে পারে। ত্বকে নানারকমের দাগ ও ক্রমাগত চুলকানির অনুভূতি কষ্ট দিতে পারে। যাঁদের CKD আছে, তাঁদের রাতে এবং গরমে এই সমস্যা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
- পা এবং চোখের চারপাশে তরল জমা হওয়ার পাশাপাশি, ফুসফুসেও তরল জমা হতে পারে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট হতে পারে।
- এছাড়া রক্তে লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতি হতে পারে, যা রক্তাল্পতা নামে পরিচিত।
- রক্তে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ যদি বেড়ে যায়, তাহলে আপনার শরীর বর্জ্য অপসারণের চেষ্টা করে । তখন বারবার বমি পেতে পারে। এছাড়া আরও কিছু সমস্যাও প্রকট হয়, সেই সম্পর্কে চিকিৎসকরাই সতর্ক করে দেন।