আতঙ্কের নাম কিসিং বাগ। আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে নতুন এই আতঙ্ক।  Centers for Disease Control and Prevention (CDC) এই অসুখ সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছে। “kissing bug” নামে পরিচিত এই অসুখ Chagas disease নামেও পরিচিত। আমেরিকার একের পর এক স্টেটে ছড়িয়ে পড়ছে এই অসুখ। এখনও পর্যন্ত ৩২ টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ।

চাগাস রোগটি ট্রাইপানোসোমা ক্রুজি নামক একটি পরজীবী দ্বারা ঘটিত অসুখ।  ট্রায়াটোমাইন বাগ বা "কিসিং বাগ" একটি রক্ত-চোষা পোকা!  এই মারাত্মক পোকা ঘুমের সময় মুখ এবং চোখের চারপাশে কামড়ায়। তারপরই এই রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ। তারপরই ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ।  

এই অসুখের প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল জ্বর, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বমি। "কিসিং বাগ" যেখানে কামড়ায়, সেই জায়গা ভয়ঙ্কর ভাবে ফুলে যায়। এই রোগ বাড়াবাড়ির জায়গায় গেলে  হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এই রোগ সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছে  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, WHO-ও। এই রোগে সারা বিশ্বে, প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ মানুষ  মারা যায়। সিডিসি গবেষকদের মতে,চাগাস এখন চিন্তার কারণই। কারণ এটি আর এক জায়গায় আবদ্ধ নেই। লাতিক আমেরিকা থেকে রোগ ছড়িয়ে গিয়েছে ৩২ টি স্টেটে। তবে স্বস্তির বিষয় একটাই,  রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে, অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা যেতে পারে। তবে,বাড়াবাড়ি হয়ে গেলে চিকিৎসা কাজ করে না অনেক সময়ই। হার্ট অ্যাটাক থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিল পর্যন্ত করে দিতে পারে এই রোগ। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পর্যন্ত হতে পারে।                

কোথায় কোথায় ছড়িয়েছে এই অসুখ 

অ্যারিজোনা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা, নেব্রাস্কা, আলাবামা, লুইসিয়ানা, দক্ষিণ ক্যারোলিনা, উত্তর ক্যারোলিনা, কেনটাকি, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, মিসৌরি, টেনেসি, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা মিসিসিপি, আরকানসাস এবং দক্ষিণ, মধ্য-পশ্চিম, এমনকি পূর্ব উপকূলের কিছু অংশ জুড়ে।          

এই পরিস্থিতিতে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা, লক্ষণ দেখলেই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।  স্ক্রিনিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেই রোগের ছড়িয়ে পড়া আটকানো সম্ভব। চাগাস রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষই প্রথমে বোঝেন না কী হয়েছে তাঁদের, তাই চিকিৎসায় দেরি হয়ে যায়, মত চিকিৎসকদের।