উচ্চ রক্তচাপ নিঃসন্দেহে নীরব ঘাতক।  হাইপারটেনশন শুধু হার্টের ক্ষতি নয়, বাড়িয়ে দেয় স্ট্রোকের ঝুঁকিও। সেই সঙ্গে   ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে লিভারও।  সেই সঙ্গে ডেকে আনে অকারণ ক্লান্তি, মানসিক চাপ বা বার্ধক্যজ  নিত নানা অসুখও।  ফ্রন্টিয়ার্স ইন মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লিভার ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এছাড়া মেটাবলিজমের সমস্যা থেকে   ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (MASLD) হতে পারে।              

  • সতর্ক থাকুন, আপনি কি বিশ্রাম নেওয়ার পরেও ক্লান্ত বোধ করছেন ? সর্বদাই অলস বোধ হয়  ?  তাহলে একবার অবশ্যই লিভার পরীক্ষা করান।   উচ্চ রক্তচাপ লিভারের কার্যকারিতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। এবার কাজের চাপের দরুণও ক্লান্তি আসতে পারে। তবে স্বাভাবিক ক্লান্তির থেকে এই ক্লান্তি আলাদা। ব্রেন ফগ-এর সমস্যাও হাইপারটেনশন ও ব্রেন ফগের সঙ্গে সংযুক্ত।   
  • পেটের ডানদিকের উপরের অংশে ব্যথা বাড়লেই সতর্ক থাকুন।  লিভার ফুলে যাওয়া বা এনলার্জমেন্টের ঝুঁকি বাড়তে পারে হাইপারটেনশনের দরুণ। অনেকেই লিভারের সমস্যাকে বদহজম বা গ্যাস বলে ভুল করে। তবে চিকিৎসকরা ব্যথার ধরন দেখেই লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত পান। আল্ট্রাসাউন্ডের মতো মেডিকেল ইমেজিং থেকে  লিভার এনলার্জমেন্টের সমস্যা ধরা পড়ে।  পরীক্ষা করিয়ে নিলে গুরুতর ক্ষতি হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা যায়।   
  • হাইপারটেনশনের রোগীরা যদি ত্বক বা চোখে হালকা হলুদ রঙের আভা দেখেন, তাহলে সতর্ক হতেই হবে। এটাই বিলিরুবিনের মাত্রা বাড়ার ইঙ্গিত। এটি কিন্তু  লিভারের ব্যাধির স্পষ্ট লক্ষণ। উচ্চ রক্তচাপ লিভারের পরিস্থিতি বেশি খারাপ করে। ত্বকের রঙের সামান্য পরিবর্তনও উপেক্ষা করবেন না। 
  • গাঢ় রঙের প্রস্রাব এবং ফ্যাকাশে রঙের মল লিভারের  ক্ষতির বড় লক্ষণ। গাঢ় রঙের প্রস্রাব মানে উচ্চ বিলিরুবিনের সঙ্কেত।  অন্যদিকে ফ্যাকাশে রঙের মলও পিত্তের প্রবাহ ঠিকমতো না-হওয়ার ইঙ্গিত।                    

লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে -                

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।লিভার-বান্ধব খাবার খান। নিয়মিত লিভার ফাংশন পরীক্ষা করান।           অসুখের কোনও লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।       

ডিসক্লেমার: লেখায় উল্লেখিত দাবি বা পদ্ধতি পরামর্শস্বরূপ। এটি মেনে চলার আগে অবশ্যই সরাসরি বিশেষজ্ঞ/চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।