কোভিডের আতঙ্ক আজও কাটেনি। ২০২০-২১ এর দুঃস্বপ্ন এখনও তরতাজা। একের পর এক ঢেউতে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া জীবন। ভ্যাকসিনের আবিষ্কার, সচেতনতা, ভাইরাসের রূপবদল, ক্ষমতা কমে যাওয়া, কোভিড আতঙ্ক কাটিয়ে মানুষকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সাহায্য করেছে। তবু এখনও কোভিডের প্রভাব পিছু ছাড়েনি। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে আসছে ভয়ঙ্কর তথ্য। 

Continues below advertisement

লং কোভিড নিয়ে নানা গবেষণা বহুদিন ধরেই চলছে। চিকিৎসকদের একটা বড় অংশের মতে, কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে ব্লাড-ক্লট হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। রক্তবাহিকার মধ্যে ছোট ছোট ক্লট তৈরি হচ্ছে। গবেষকদের ধারণা, কোভিডের প্রভাবে মানুষের শরীরে ইমিউন সিস্টেমে বিশেষ পরিবর্তন হচ্ছে।  অনেকেই কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর কয়েক দিনের সর্দি, গলা ব্যথা, কাশি বা জ্বরের পরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান। কিন্তু এমন অনেক রোগী আছেন যাদের উপর কোভিডের প্রভাব থেকে যাচ্ছে আজীবন।  যেমন, অস্বাভাবিক  ক্লান্তি, ব্রেন ফগ, শরীরে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা। একেই লং কোভিড বলা হয়। এই লক্ষণগুলির পেছনের কারণগুলি এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ছিল না।    

গবেষণায় কী জানা গেছে?

Continues below advertisement

হালে বিজ্ঞানীরা লং কোভিড রোগীদের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চিহ্নিত করেছেন।  রক্তের মধ্যে থাকা মাইক্রোক্লটের  প্রাবল্য। মাইক্রোক্লট হল রক্তে ঘুরে বেড়ানো ক্লটিং প্রোটিনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি (abnormal clumps of blood clotting proteins, such as fibrin)। কোভিড রোগীদের মধ্যে এই পরিবর্তন বিশেষ ভাবে দেখা যায়। ২০২১ সালেই দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেলেনবোশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজিস্ট রেসিয়া প্রিটোরিয়াস প্রথম কোভিড রোগীদের মধ্যে মাইক্রোক্লট বৃদ্ধির বিষয়টি নজরে আনেন । এগুলি হল ক্ষুদ্র ,স্থায়ী জমাট বাঁধা রক্ত। স্ট্রোক বা থ্রম্বোসিসের মতো পরিস্থিতিতে যেমন ব্লাড-ক্লট দেখা যায়, তার থেকে ছোট, কিন্তু রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করার পক্ষে যথেষ্ট।   

গবেষণায় আরও জানা গেছে যে, লং কোভিড রোগীদের মধ্যে  শ্বেত রক্তকণিকা নিউট্রোফিলে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়।  এই পরিবর্তনের ফলে ভাঙতে শুরু করে নিউট্রোফিলের ডিএনএ। একে নিউট্রোফিল এক্সট্রা সেলুলার ট্র্যাপস (NET) বলা হয়।  যদিও NET সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে, কিন্তু এর অত্যধিক উৎপাদন ক্ষতিকারক হতে পারে। অতিরিক্ত NET হলে , তা থেকে গুরুতর প্রদাহজনক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া  রক্ত জমাট বাঁধা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে গুরুতর সংক্রমণ, অটোইমিউন অসুখ, কর্কট রোগ, ডায়াবেটিস এবং আর্থ্রাইটিসের সমস্যাও বাড়ে ।    

পরে দেখা যায়, এই  মাইক্রোক্লট  ও অতিরিক্ত NET তৈরির মধ্যেও একটা সম্পর্ক আছে। যাদের নিউট্রোফিল এক্সট্রা সেলুলার ট্র্যাপস বেশি উৎপাদিত হয়েছে, তাদের মধ্যে আবার মাইক্রোক্লটের প্রবণতা বেশি, যার নেতিবাচক প্রভাব সাঙ্ঘাতিক। 

অস্বীকৃতি: এই তথ্য গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এটিকে চিকিৎসা পরামর্শ হিসাবে বিবেচনা করবেন না। কোনো নতুন কার্যকলাপ বা ব্যায়াম শুরু করার আগে আপনার ডাক্তারের বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।