উচ্চ রক্তচাপ বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির মধ্যে একটি। এই রোগ কেবল লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিতই করে না, বরং হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের মতো গুরুতর রোগেরও সবচেয়ে বড় কারণ। বেশিরভাগ মানুষ ওষুধ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখেন, কিন্তু কিছু রোগী আছেন যাঁদের অনেক ওষুধ খাওয়ার পরেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে না। একে চিকিৎসা ভাষায় ড্রাগ-প্রতিরোধী উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। 

নতুন গবেষণা কী বলছে ?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণায় দেখেছেন যে, কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিন বি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে -

ভিটামিন বি৬

ভিটামিন বি১২

ফলিক অ্যাসিড

রাইবোফ্লাভিন (বি২)

গবেষণা অনুসারে, ওষুধ-প্রতিরোধী উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা যদি সঠিক পরিমাণে এই ভিটামিন গ্রহণ করেন, তাহলে তাঁদের রক্তচাপ ৬ থেকে ১৩ মিমিএইচজি কমানো যেতে পারে।

কতজন মানুষ এতে আক্রান্ত ?

বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ১২.৮ শতাংশ মানুষ ওষুধ-প্রতিরোধী উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। চিকিৎসকরা বলছেন যে, স্বাভাবিক রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমিএইচজি-র কম হওয়া উচিত। নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, এটি ১৩০/৮০ mmHg এর নীচে রাখা আরও ভাল। কিন্তু ওষুধ-প্রতিরোধী রোগীদের জন্য এটি আরও কঠিন প্রমাণিত হয়।

কী রকম প্রভাব দেখায় ভিটামিন B ?

আমাদের শরীরে হোমোসিস্টাইন নামক একটি পদার্থ তৈরি হয়।

শরীরে বি ভিটামিনের ঘাটতি হলে এর মাত্রা বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত হোমোসিস্টাইন রক্তনালীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সঙ্কুচিত করে।

এর ফলে রক্তচাপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে-

গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সঠিক পরিমাণে বি ভিটামিন গ্রহণ হোমোসিস্টিনের মাত্রা কমাতে পারে, যা স্নায়ুকে শিথিল করে এবং রক্তচাপ কমায়।

সমস্যাটা কী ?

হোমোসিস্টিনের স্বাভাবিক মাত্রা কত হওয়া উচিত তা নিয়ে ডাক্তারদের মধ্যে এখনও বিতর্ক রয়েছে। কিছু ডাক্তার ১১.৪ μmol/L পর্যন্ত মাত্রা ঠিক বলে মনে করেন, আবার কেউ কেউ বলেন, ১০ μmol/L বা তারও কম হওয়া উচিত। এই কারণেই প্রতিটি রোগীর জন্য বি ভিটামিনের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। 

সবাই কি বি ভিটামিন গ্রহণ করতে পারে ?

শরীর এবং হার্টকে সুস্থ রাখার জন্য বি ভিটামিন অপরিহার্য। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সবাই ইচ্ছামত পরিপূরক গ্রহণ শুরু করতে পারে।

ডিসক্লেমার : লেখায় উল্লেখিত দাবি বা পদ্ধতি পরামর্শস্বরূপ। এটি মেনে চলার আগে অবশ্যই সরাসরি বিশেষজ্ঞ/চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।