কলকাতা : কোভিডের স্মৃতি যেতে না যেতেই, রাজ্যে ফের শুরু হল নিপা আতঙ্ক। একজন মহিলা এবং একজন পুরুষ নার্স নিপায় আক্রান্ত হয়েছেন। আরও দুজনকে নিপা সন্দেহে ভর্তি করতে হয়েছে হাসপাতালে। এই রোগে মৃত্যুহার যে সাঙ্ঘাতিক , এই ধারণাটুকু অনেকেরই আছে। তাই আতঙ্কটাও বেশি। ঠিক কীভাবে মানুষের মধ্যে চলে আসতে পারে এই মারণ ভাইরাস? সেটা জানা থাকলে, প্রতিরোধ করাও কিছুটা সহজ হয়।
ডাক্তাররা বলছেন, নিপা একটি 'জুনোটিক' ডিজিজ, যা প্রাণী থেকে সংক্রমিত হয়। বাদুড়ের লালারস থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। বাদুড়ের আধখাওয়া ফল ভাল ফলের সঙ্গে মিশে থাকলে সেখান থেকেও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। এছাড়া কেউ কেউ বলছেন শুয়োরের মাংস থেকেও ছড়াতে পারে ভাইরাস সংক্রমণ। নিপা ভাইরাস নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একটি নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলীর উল্লেখ আছে।
যা যা করতে পারলে ভাল -
- খাওয়ার আগে ফল ধুয়ে নিন
- ক্লোরিনেটেড এবং ফোটানো জল খান।
- পশুপাখি এবং খাঁচা পরিষ্কার করার সময় সুরক্ষিত পোশাক পরুন
- বাদুড় এবং অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শে আসবেন না। আপনার পোষ্যটিকেও আসতে দেবেন না।
- বাদুড়ের লালা রস কিন্তু মারাত্মক। খেজুরের রস যেখানে সংগ্রহ করা হয়, সেই জায়গাটি ও বাড়িতে যে কূপ ব্যবহার করেন, তার কাছাকাছি যেন বাদুড় না আসে।
- সর্বদা সাবান ও জল দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
- কোনও লক্ষণ দেখলে স্থানীয় সরকারি হাসপাতাল, প্রশাসনের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
- সংক্রামিত ব্যক্তি বা উপসর্গ আছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার সময় ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। যা যা করতে করবেনই না -
- গাছ থেকে পড়ে যাওয়া দূষিত ও আধা খাওয়া ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- খোলা পাত্রে রাখা কাঁচা খেজুরের রস এবং তাড়ি জাতীয় পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকুন।
- বাদুড়ের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং পরিত্যক্ত কুয়া, বাড়ি, গুহা ও খনির মতো জায়গা পরিদর্শন করা থেকে বিরত থাকুন।
- এনআইভি-তে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
- অসুস্থ বা মৃত প্রাণীদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
আক্রান্তের ব্যবহৃত বিছানা, পোশাক বা অন্যান্য জিনিসপত্র থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা রাখে নিপা ভাইরাস। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো উপসর্গ হলেও নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৫০-৬০ শতাংশ। খেজুরের রস থেকেও ছড়াতে পারে সংক্রমণ।যার নজির রয়েছে বাংলাদেশে।