ওজন কমানোর চিকিৎসায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে ভারতে। যার ফলে অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন। কারণ আমাদের দেশে এই ওজন বা স্থূলতা লক্ষ লক্ষ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এখানেও দেখা দিয়েছে একটি বড় সমস্যা। 'দ্য ল্যানসেট'-এর একটি নতুন সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মানুষ যখন নিজের ওজন কমানো এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ খাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন, ঠিক তখনই কিছু 'অসাধু লোক' সঠিক ওষুধের নকল সংস্করণ তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে পারে। 'দ্য ল্যানসেট'-এর এই সতর্কবার্তা খুবই উদ্বেগজনক।
ল্যানসেটের দাবি, স্থূলতার নকল ওষুধ কারবারের নেটওয়ার্ক গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১১টি দেশে ছড়িয়ে রয়েছে এই নেটওয়ার্ক। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই অবৈধ ওষুধগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হচ্ছে। এই ওষুধে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া সহ উচ্চ-মাত্রার ইনসুলিন থাকছে। এতে অ্যালার্জি, অঙ্গহানির মত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন মানুষ।
কেন নকল ওষুধের ফাঁদে পা দিচ্ছে মানুষ ?
১. আসল ওষুধের লেখা ও তথ্য হুবহু এক থাকছে নকল ওষুধেও। ২. আসল ওষুধের দাম অনেক, কিন্তু নকল ওষুধ ছাড় দেওয়ার নাম করে কম দামে পেয়ে যাচ্ছে মানুষ। ৩. আসল ওষুধ কিছু এলাকার বড় বড় ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়, যার ফলে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ৪. সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।
বাঁচার উপায় কী ?
১. কম দামের ওষুধ দেখলে কেনা বন্ধ করুন। ২. সবসময় লাইসেন্স প্রাপ্ত বড় ওষুধের দোকানে গিয়ে ওষুধ কিনুন। ৩. সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য দেখে ওষুধ কিনবেন না।৪. ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিয়ে ওষুধ কিনুন এবং কেনার পর তা সঠিক কিনা তা দেখিয়ে নিন। ৫. ওষুধ কেনার সময় তথ্য ও বারকোড যাচাই করে নেবেন।
স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধির কারণ কী?
শরীরে যখন প্রয়োজনের বেশি চর্বি জমা হতে থাকে তখন আমরা তাকে স্থূলতা বা ওবেসিটি বলি। এটি হওয়ার মূল কারণ হল শরীরে পুষ্টির অভাব। প্রত্যেকটি মানুষের বয়স, ওজন ও উচ্চতা অনুযায়ী শরীরে পুষ্টির প্রয়োজন হয়। যখনই তার অভাব হয় এবং এটি দিনের পর দিন ঘটতে থাকে তখন ওবেসিটি দেখা দেয়। আবার, ফাস্ট ফুড, কোল্ড ড্রিঙ্কস, ঠাণ্ডা জল, বা শারীরিক পরিশ্রম না করা থেকে স্থূলতা হয়ে থাকে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে জিনগত কারণ ও কোনও ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকেও হয়ে থাকে।
