নয়াদিল্লি : ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী-সহ অবাঞ্চিত ভোটারদের নির্মূল করতে ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ডের লিঙ্ক করানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। Unique Identification Authority of India বা UIDAI-এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই উদ্যোগ নিতে হলে প্রযুক্তিগত ও আইনি পরিকাঠামো কী হবে তা নিয়ে আলোচনা করতে এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিক,  UIDAI এবং অন্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও আরও দুই নির্বাচন কমিশনার ড.সুখবীর সিংহ সান্ধু ও ড. বিবেক জোশিম।


ECI স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, সংবিধানের ৩২৬ ধারার অধীনে ভারতীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার সংরক্ষিত থাকলেও, আধার কার্ড কেবল পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। এই দুইয়ের সংযোগ সাংবিধানিক বিধান এবং আইনি নির্দেশিকা অনুসরণ করবে। 


এই সিদ্ধান্তের পর, শীঘ্রই UIDAI ও ECI-এর বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।


কারও মৃত্যু হয়েছে কয়েক বছর আগে। নিয়ম করে প্রশাসনের কাছে ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড জমা দিয়ে দিয়েছে পরিবার। কিন্তু তারপরেও নাম বহাল তবিয়তে থেকে গেছে ভোটার লিস্টে। ফলে পরলোকে গমনের পরেও, অনেকেই বৈধ ভোটাররূপে এখনও থেকে গেছেন ইহলোকেই! তেমনই আবার অনেকে এমনও আছেন যাঁরা বহাল তবিয়তে জীবিত থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের খাতায় তাঁরা হয়ে গেছেন মৃত! এমনই ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে এসেছে রাজ্যে। দেশের অন্যান্য রাজ্য নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। সম্প্রতি এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 


এই পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার, ভুয়ো ভোটার ইস্য়ুতে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল ও বিজেপি। দুপক্ষই, নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে, একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার ঢোকানোর অভিযোগ জানিয়েছিল। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ জানানো হয়, বাংলার ভোটারদের এপিকে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের ভোটারদের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলার ভোটার তালিকায় ১৩ লক্ষের বেশি ডুপ্লিকেট ভোটারের অভিযোগ করা হয় বিজেপির তরফে। দু'পক্ষই স্বচ্ছ ভোটার তালিকার দাবিতে সরব হয়। এনিয়ে সংসদের দুই কক্ষই উত্তপ্ত হয়। সম্প্রতি সংসদে ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব খারিজ হতেই বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূল, বিজেডি-সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ। ওয়াকআউট করে তৃণমূল, কংগ্রেস ও বিজু জনতা দল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, সোমবারই ভুয়ো ভোটার নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবারও এই ইস্য়ুতে সংসদে তৃণমূলের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় কংগ্রেসকে।


এরপরই ভোটার তালিকা থেকে ভূত তাড়াতে তৎপরতা হয় নির্বাচন কমিশন। ডাকা হয় বৈঠক। বর্তমানে, ভোটার আইডির সঙ্গে আধার লিঙ্ক করা কারো ইচ্ছার উপর নির্ভর করে এবং নাগরিকদের আইনত আধারের তথ্য প্রদানের প্রয়োজন নেই। তবে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য ইসিআই রাজনৈতিক দলগুলিকে এর সঙ্গে জুড়ছে। নির্বাচন কমিশন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত জাতীয় ও রাজ্য রাজনৈতিক দলগুলিকে ERO, DEO, এবং CEO-দের কাছে এই সংক্রান্ত অমীমাংসিত সমস্যার কথা জানানোর কথা বলেছে।