পটনা: নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে চরবৃত্তির অভিযোগ তেজস্বী যাদবের। ট্যুইটার হ্যান্ডলে লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলের দাবি, তাঁর ওপর নজরদারি চালাতে বাসভবনের বাউন্ডারির দেওয়ালের ওপর সিসিটিভি বসিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী! বিহার বিধানসভার বিরোধী নেতা তেজস্বীর পটনার ৫ দেশরত্ন মার্গের বাংলো নীতীশের ৭ সার্কুলার রোডের বাসভবনের ঠিক পিছনেই। ট্যুইটার হ্যান্ডলে সেই সিসিটিভি ক্যামেরার ছবি পোস্ট করে লালুর ছোট ছেলে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়ির গা ঘেঁষে দেওয়ালেই কেন ক্যামেরা বসানোর দরকার হল মুখ্যমন্ত্রীর। নীতীশের বাসভবনের তিনদিকেই রয়েছে মেন রোড। তেজস্বীর বাংলো চতুর্থ বাউন্ডারি দেওয়ালের ওপারেই। তেজস্বী ট্যুইট করেছেন, বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে তিনদিকে মেন রোডে ঘেরা, চতুর্থ দিকে বিরোধী নেতার বাসভবন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাসভবন সংলগ্ন দেওয়ালেই সিসিটিভি বসানোর প্রয়োজন বোধ করলেন। ওনাকে কেউ বলুন, এসব কৌশলে কাজ হবে না। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবেশীর ওপর চরবৃত্তি করছেন, তাঁর গোপনীয়তায় নাক গলাচ্ছেন, স্বৈরাচারী মানসিকতা দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পাল্টা তেজস্বীকে আক্রমণ করে বিহারের শাসক দল জেডি (ইউ) বলেছে, মনে হয়, অপরাধীদের সঙ্গে ওনার মাখামাখি বাইরে বেরিয়ে পড়ায় আশঙ্কায় উনি ভয় পাচ্ছেন। নয়তো ওনার আতঙ্কিত হওয়ার আর কী কারণ থাকতে পারে? বাউন্ডারি দেওয়ালে বসেছে, সিসিটিভি তো ওনার বেডরুমে বসেনি। তাছাড়া উনি কিছু অন্তত জ্ঞান অর্জন করুন যাতে নিজের ট্যুইট নিজে করতে পারেন। হাইস্কুলও তো শেষ করেননি। আমরা নিশ্চিত, ওনার হয়ে কেউ ওগুলো লিখে দিচ্ছে। বিহারে মহাগঠবন্ধনের জমানায় উপ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তেজস্বী। তাঁর জন্য তখন ৫ দেশরত্ন মার্গের বাসভবন বরাদ্দ হয়। কিন্তু শাসন বদলের পর সেটি বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদীর জন্য বরাদ্দ করে তাঁকে ছেড়ে দিতে বারবার নোটিস পাঠানো হলেও ছাড়েননি তেজস্বী। বাসভবন খালি করার নোটিস চ্যালেঞ্জ করে দেওয়া তেজস্বীর পিটিশন নাকচ করেছে পটনা হাইকোর্ট। যদিও কেন বা কার নির্দেশে ওই সিসিটিভি বসেছে, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।