জাতীয় যুদ্ধ স্মারকের উদ্বোধন, পরিবারতন্ত্র নিয়ে নাম না করে কংগ্রেসকে বিঁধলেন মোদি
ওয়েব ডেস্ক, এবিপি আনন্দ | 25 Feb 2019 09:33 PM (IST)

নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লির বিখ্যাত ইন্ডিয়া গেট চত্বরে দেশের জাতীয় যুদ্ধ স্মারক (ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল)-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাধীনতার পর নিহত সৈন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই যুদ্ধ স্মারক তৈরির কথা ভাবা হয়েছিল ৬০ বছর আগে। প্রায় ৪০ একর জমিতে তৈরি হয়েছে এই যুদ্ধ স্মারক। চারটি সমকেন্দ্রিক বৃত্ত বা চক্রের আকারে বানানো হয়েছে এর দেওয়াল। আকাশ থেকে যা অনেকটা চক্রব্যূহের মতো দেখাবে। চক্র চারটির নাম হল, অমর চক্র, বীরতা চক্র, ত্যাগ চক্র ও রক্ষক চক্র। চক্রের দেওয়ালগুলিতে লেখা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৪২ জন নিহত সেনার নাম। ভারতের ইতিহাসে স্মরণীয় লড়াইগুলির ইতিহাস বিধৃত করে যুদ্ধ স্মারকে রয়েছে ছয়টি ব্রোঞ্জের মুর্যাুলও। সবচেয়ে ছোট চক্রটি অর্থাৎ অমর চক্রের মাঝে রয়েছে স্তম্ভ। ইন্ডিয়া গেটের মতো এখানেও থাকছে অনির্বাণ শিখা। পাথরে তৈরি স্তম্ভের নিচে অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলন করে ১৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাতীয় যুদ্ধ স্মারক জাতীর উদ্দেশে উত্সর্গ করলেন প্রধানমন্ত্রী। আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি করল ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টার। উদ্বোধনের আগে প্রাক্তন সমরকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে কংগ্রেসকে বিঁধলেন মোদি। তিনি বললেন, ২০১৪-তে তাঁর সরকার আসার আগে ক্ষমার অযোগ্য উদাসীনতার শিকার হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা। মোদি আরও বলেন, আগের সরকার ‘পরিবার প্রথম’ নীতি অনুসারে চলত, আর তাঁর সরকারের কাছে ভারত সবার আগে। এই প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় যুদ্ধ স্মারক নির্মাণের ক্ষেত্রে বিলম্বের কথা উল্লেখ করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় যুদ্ধ স্মারক নির্মাণের ক্ষেত্রে পূর্বতন সরকারগুলির দীর্ঘসূত্রিতা নিহত জওয়ানদের পরিবারের প্রতি একটা অবিচার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ ও সশস্ত্র বাহিনীতে শক্তিশালী করা সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্তগুলি বকেয়া ছিল, তাঁর সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেগুলির ছাড়পত্র দিয়েছে। প্রাক্তন সমরকর্মীদের জন্য তিনি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল তৈরির কথাও জানিয়েছেন মোদি। রাফাল চুক্তি নিয়ে মোদি বলেছেন, ওই যুদ্ধবিমান দেশে যাতে না আসে তার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু সেগুলি কয়েক মাসের মধ্যে চলে এলে সেই চেষ্টা নস্যাত হয়ে যাবে।