১৯৯৪ সালের চরবৃত্তি মামলায় অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করে হেনস্থা করা হয়েছিল ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানীকে, বলল সুপ্রিম কোর্টে, ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
Web Desk, ABP Ananda | 14 Sep 2018 07:47 PM (IST)

নয়াদিল্লি: ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানী নাম্বি নারায়ণনকে ১৯৯৪ সালের চরবৃত্তি মামলায় অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করে হেনস্থা করা হয়েছিল, তাঁর ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে জানাল সুপ্রিম কোর্ট। এ ব্যাপারে জড়িত কেরল পুলিশের অফিসারদের ভূমিকা তদন্ত করে খতিয়ে দেখতে বলেছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি এ এম খানবিলকর ও বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ মানসিক অত্যাচারের শিকার হওয়ায় ৭৬ বছর বয়সি বিজ্ঞানীকে আট সপ্তাহের মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে কেরল সরকারকে। পাশাপাশি নারায়ণনকে চরবৃত্তি মামলায় অভিযুক্ত করার বিষয়টি তদন্ত করতে শীর্ষ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি ডি কে জৈনের নেতৃত্বে একটি ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বেঞ্চ। ১৯৯৪-এর চাঞ্চল্যকর চরবৃত্তি মামলায় ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ, গোপন নথিপত্র বিদেশি রাষ্ট্রকে পাচারের অভিযোগ ওঠে নারায়ণন সহ দুজন বিজ্ঞানী ও মালদ্বীপের ২ মহিলা সহ চারজনের বিরুদ্ধে। প্রথমে অভিযোগের তদন্ত করে কেরল পুলিশ। পরে তদন্ত করে সিবিআই। তারা কোনও চরবৃত্তির প্রমাণ পায়নি। এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তোলপাড় হয়। কংগ্রেসের একাংশ টার্গেট করে তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী কে করুণাকরণকে, যাঁকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল। নারায়ণন কেরল হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, প্রাক্তন ডিজিপি সিবি ম্যাথুজ ও কেরল পুলিশের দুই অবসরপ্রাপ্ত সুপার কে কে জোশুয়া, এস বিজয়নের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার নেই। পরে তিনজনকেই নারায়ণনের অন্যায় গ্রেফতারির জন্য দায়ী করেছিল সিবিআই। ১৯৯৮ সালে শীর্ষ আদালত নারায়ণন ও বাকিদের ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করে, মামলায় রেহাই পাওয়া সবাইকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলে রাজ্য সরকারকে। নারায়ণন পরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যান, বলেন, তাঁকে যে মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে, সেজন্য রাজ্য সরকার তাঁকে ক্ষতিপূরণ দিক। মানবাধিকার কমিশন সুপ্রিম কোর্টের ১৯৯৮ এর ২৯ এপ্রিলের রায় বিবেচনা করে ২০০১ সালে তাঁকে ১০ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণ বরাদ্দ করে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ স্বাগত জানিয়ে নারায়ণন আজ বলেন, কেরল পুলিশ সাজানো মামলা করেছিল, যে প্রযুক্তি তিনি চুরি করে বিক্রি করেছেন বলে তারা ১৯৯৪ সালের মামলায় দাবি করেছিল, সে সময় তার কোনও অস্তিত্ব পর্যন্ত ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার বলেছে, ওটা ছিল অবৈধ গ্রেফতারি। আমায় যে যন্ত্রণা, নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছিল, সেটাও তারা মেনেছে।