বিধ্বস্ত দেশ। তাসের ঘরের মতো ধুলোয় মিশেছে ঘরবাড়ি। আফগানিস্তানের পূর্ব প্রদেশ যেন ধ্বংস্তূপ। দিকে দিকে পড়ে দেহ। এতটাই বিপর্যস্ত এলাকা, ত্রাণ পৌঁছনোও কঠিন হয়ে পড়েছে। আরও কত মৃতদেহ বের হবে কে জানে ! গতকালের হিসেবই বলছে ৮০০র বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছে। আরও বহু দেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। সারা বিশ্বের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তালেবান সরকার।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, শুধুমাত্র প্রত্যন্ত কুনার প্রদেশেই প্রায় ৮০০ জন মারা গিয়েছেন। ২,৫০০ জন আহত হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী নাঙ্গারহার প্রদেশে আরও ১২ জন নিহত এবং ২৫৫ জন আহত হয়েছেন
আফগানের ভূকম্পন বিধ্বস্ত এলাকার বেশিরভাগই নিচু। মাটির ইটের তৈরি বাড়িতে বাস করে মানুষ। এগুলো এমনিই ধসে পড়ার অবস্থায় থাকে। তাই ভূমিকম্পে আর রক্ষা পায়নি বাড়িগুলি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছতে রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। বিরাট এলাকাজুড়ে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। মোবাইল নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আফগানিস্তানে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং পূর্ণ মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। মোদি লিখেছেন, "আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে আমরা শোকাহত পরিবারের সঙ্গে রয়েছি। আমরা আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। ভারত ক্ষতিগ্রস্তদের সবরকম সম্ভাব্য মানবিক সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। " পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
আফগান সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর । ভূমিকম্পের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে ত্রাণ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভারত মঙ্গলবারই কাবুলে ১,০০০টি পরিবারকে তাঁবু পাঠানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাঠানো হচ্ছে ১৫ টন খাদ্য সামগ্রী ।
এর আগে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে একটি ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। সেবার মারা গিয়েছিলেন কমপক্ষে ৪,০০০ জন । এরপরও একাধিক ভূমিকম্প হয়েছে আফগানিস্তানে। এবারে মৃত্যু মিছিল কোথায় গিয়ে থামে সেটাই দেখার।