কাবুল: আফগানিস্তানে একের পর এক প্রদেশ দখল হয়েছে আগেই। এবার জমি ছেড়ে আফগান যুবতীদের নিশানা করেছে তালিবান। জোর করে জঙ্গিদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে যুবতীদের। সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে তেমনই তথ্য।

Continues below advertisement

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বদলে গিয়েছে দেশের চিত্র। কমপক্ষে ১০ টি প্রদেশ দখল করে নিয়েছে তালিবানি জঙ্গিরা। সব জায়গাতেই আত্মসমর্পণ করেছে আফগান সেনা। সারা দেশে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছে জঙ্গিবাহিনী। ফলে কার্যত রাজধানী কাবুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে আফগানিস্তানের সরকার। তবে কদিন আগে সেখানেও গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ করেছে তালিবানিরা।

'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর রিপোর্ট বলছে, মুখে তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই বললেও দেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে তালিবানিরা। আত্মসমর্পণ করা আফগান জওয়ানদেরও হত্যা করছে তারা। এমনকী খোদ আফগানিস্তানের নিরস্ত্র জনতার ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি সেই নমুনা দেখা গিয়েছে বিভিন্ন প্রদেশে। তবে এবার তালিবানি অত্যাচারের আরও বর্বরোচিত ঘটনার সাক্ষী থাকছে আফগানিস্তান। রিপোর্ট বলছে, জঙ্গিদের সঙ্গে আফগান যুবতীদের জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।বিয়ের নামে যৌন নির্যাতন শুরু করেছে জঙ্গিরা।

Continues below advertisement

আফগানিস্তানে বহু প্রদেশে ক্ষমতা দখলের পরই দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেয় তালিবানি জঙ্গিরা। তারা জানায়, তালিবানিদের নিয়ে দেশবাসী তথা সরকারি আমলা ও সেনাবাহিনীর ভয় পাওয়ার কিছু নেই।যদিও 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্ষমতায় এসেই নিজেদের কথা রাখেনি জঙ্গিরা। 

সম্প্রতি তালিবানিদের এই দ্বিচারিতা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আফগানিস্তানের আমেরিকার দূতাবাস। সরকারি ট্যুইটার হ্যান্ডেলে তারা জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী আফগান সেনা জওয়ানদের হত্যা করা হচ্ছে। এটা যু্দ্ধাপরাধের সমান, যা মেনে নেওয়া যায় না। বৃহস্পতিবারই তালিবানি মুখপাত্র জানিয়েছে, আফগানিস্তানের অন্যতম বড় শহর কান্দাহার এখন তাদের দখলে। রাজ্যপালের ভবন ছাড়াও সব সরকারি ইমারত দখল করে নিয়েছে তারা। 

পরিসংখ্যান বলছে, ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের ১২টি প্রদেশের রাজধানী জবরদখল করেছে তালিবানি জঙ্গিরা। মূলত, মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছাড়ার পর থেকেই আগ্রাসী মনোভাব নিয়েছে তালিবানিরা। আমেরিকার সঙ্গে তালিবানিদের শান্তি চুক্তি হওয়ার পরই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সেনা। আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান ছাড়বে আমেরিকার সেনাবাহিনী।