নয়া দিল্লি: সাম্প্রতিক উড়ান ইতিহাসে একটি ভয়াবহ বিপর্যয়। ২৭৪টি মৃত্যু। বহু প্রশ্ন উঠে আসছে। যার উত্তর এখনও অধরা। কেন ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পড়ে গেল বিমান? যান্ত্রিক ত্রুটিতেই ঘটে গেল এত বড় বিপর্যয়? নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কারণ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে বিমানের ব্ল্যাক বক্স।  আমদাবাদের দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হয়েছিল আগেই। জানা যাচ্ছে, সে দিনের দুর্ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানের ব্ল্যাক বক্সটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তথ্য উদ্ধার করতে ব্ল্যাক বক্সটিকে আমেরিকায় পাঠানো হবে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও কিছু জানান হয়নি এই ইস্যুতে। প্রথমে উদ্ধার হয় ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR)। এরপর অভিশপ্ত AI 171-এর ককপিটের নীচ থেকে মেলে ব্ল্যাক বক্সের আরেকটি অংশ। যেটি ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR) হতে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা। 

বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ব্ল্যাক বক্স। এতে বিমানের যাবতীয় তথ্য ধরা থাকে। দুর্ঘটনার সময় বিমান কত উচ্চতায় উড়ছিল, গতিবেগ কত ছিল, বিমান কোন পথে এগিয়েছে, ইঞ্জিন কী অবস্থায় ছিল, এই সমস্ত তথ্য জমা হয় ব্ল্যাক বক্সে। পাশাপাশি ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে ককপিটের কথাবার্তা, রেডিও ট্রান্সমিশন, ওয়ার্নিং অ্যালার্ম, এবং অন্যান্য যান্ত্রিক শব্দও ব্ল্যাক বক্সে সংরক্ষিত থাকে। 

আগে জানা গেছিল, ওই এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানটি আমেরিকায় তৈরি হওয়ায়, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে তদন্তে যুক্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) ও বোয়িং সংস্থাও। সেক্ষেত্রে 'ব্ল্যাক বক্স' থেকে তাঁরা কিছু উদ্ধার করতে পারে কিনা, সেটাই দেখার। 

উল্লেখ্য, ব্ল্যাক বক্সে দু’টি অংশ থাকে। একটি ‘ককপিট ভয়েস রেকর্ডার’ ও আর একটি হল ‘ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার’। ওয়াশিংটনে ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড’-এ নিয়ে যাওয়া হবে তথ্য উদ্ধার করতে। সূত্রের খবর, ব্ল্যাক বক্সের এই অংশগুলি পরীক্ষার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যেতে পারে বোয়িং। কিন্তু তা কতটা নিরাপদ? নিয়ম মেনে ভারতের প্রতিনিধি দলও সেখানে উপস্থিত থাকবে। 

এবার কি জানা যাবে ATC-এর সঙ্গে পাইলটের ঠিক কী কথা হয়েছিল? কী বিপদ সঙ্কেত দিয়েছিলেন পাইলট? কখন দেওয়া হয়েছিল 'মে ডে কল'?