নয়াদিল্লি: জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরে ফিরে আসার নজির রয়েছে। কিন্তু টানা আট ঘণ্টা আকাশে ওড়ার পর কোনও বিমানের ফিরে আসার নজির তেমন নেই। তবে সব ধ্যানধারণা ভেঙে এমনই নজির সৃষ্টি করল এয়ার ইন্ডিয়া। ভুল বিমানে যাত্রী তোলা হয়েছে বোঝার পর বিমাবন্দরে ফিরিয়ে আনা হল বিমান। (Air India News)

Continues below advertisement

বৃহস্পতিবার দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে ওড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার Boeing-200LR বিমানটি। সকাল ১১টা বেজে ৩৪ মিনিটে দিল্লি থেকে কানাডার ভ্য়াঙ্কুভারের উদ্দেশে আকাশে ওড়ে। প্রায় চার ঘণ্টা ওড়ার পর, চিনের আকাশে প্রবেশের পর সম্বিত ফেরে এয়ার ইন্ডিয়ার। ওই বিমানের কানাডায় প্রবেশের অনুমতি নেই বলে মনে পড়ে সকলের। সেই আবহে বিমানটিকে দিল্লি ফিরে আসতে বলা হয়। (Air India Boeing 777-200LR)

এর পর, মাঝ আকাশে বিমানটির মুখ ঘোরান পাইলট। কী হচ্ছে বুঝতে না পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। শেষ পর্যন্ত, আরও চার ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে দিল্লি ফিরে আসে বিমানটি। সবমিলিয়ে ৭ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট আকাশে ছিল বিমানটি। জানা গিয়েছে, কানাডায় শুধুমাত্র Boeing-300ER বিমান ওড়ানোরই অনুমতি রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে। বৃহস্পতিবার যে বিমানটি আকাশে ওড়ে সেটি 777-200LR. 

Continues below advertisement

বিমানটি দিল্লিতে ফিরে এলে, যাত্রীদের এক এক করে নামিয়ে আনা হয়। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। বিবৃতি প্রকাশ করে তারা জানায়, পরিচালনা সংক্রান্ত সমস্যার দরুণ বিমানটিকে ফিরিয়ে আনা হয়। নিরাপদে বিমানটি ফিরে আসে এবং যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয়। অসুবিধার জন্য় যাত্রীদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে তারা। যাত্রীদের বিমাবন্দরের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালেই অন্য বিমানে তাঁদের কানাডা পাঠানো হবে বল আশ্বাস দেয় এয়ার ইন্ডিয়া।

তবে এই ঘটনায় আবারও প্রশ্নের মুখে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়া। পরিষেবা নিয়ে যেমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের, তেমনই খরচ-খরচার প্রশ্নও উঠে এসেছে। Boeing 777 আকাশে ওড়ার অর্থ ঘণ্টায় আট থেকে নয় টন জ্বালানি খরচ হয়। কেন বিষয়টি নজরে পড়ল না কারও, কেন এই ভুল এড়ানো গেল না, উঠছে প্রশ্ন। এক আধিকারিক বলেন, “এভাবে অন্য বিমান ওড়ানো যায় না। অনুমতি ছাড়া এই ধরনের পদক্ষেপ করা যায় না একেবারেই। বিমানবন্দেরর পরিকাঠামো, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, পার্কিং গেটও তেমনই হতে হয়।”

আন্তর্জাতিক বিমান ওড়ানোর অনুমোদন পেতে পেশ কয়েকটি ধাপ পেরোতে হয়। কোন দেশে যাচ্ছে বিমান, কোন ধরনের বিমান, তেমন ব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না, বিধিনিয়ম কী বলছে-এমন একাধিক বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই এয়ার ইন্ডিয়ার ভূমিকা আতস কাচের নীচে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।