নয়াদিল্লি: অযোধ্যা থেকে মালদা-বেঙ্গালুরু অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত যাতায়াত করবে ট্রেনটি। ২২০০ কিলোমিটারের বেশি যাত্রাপথে ট্রেনটি ছুঁয়ে যাবে ৩২টি স্টেশন। সাধারণ মানুষকে আরামে যাতায়াতের সুবিধা দিতেই অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের ভাবনা, দাবি রেল কর্তৃপক্ষের। কত ভাড়া এই ট্রেনে চাপতে, জেনে নিন খুঁটিনাটি। (Amrit Bharat Express)

অযোধ্যা থেকে সূচনা হওয়া মাত্রই অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের ভাড়ার নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, সেই অনুযায়ী, অন্য মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের ভাড়া ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ বেশি। অসংরক্ষিত দ্বিতীয় শ্রেণির আসনের ভাড়া অন্য ট্রেনের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি পড়বে। (Amrit Bharat Express Fares)

যাত্রা আরামদায়ক বলেই ভাড়া বেশি বলে জানিয়েছে ভারতীয় রেল। ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রাপথে দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিট কিনতে খরচ পড়বে ন্যূনতম ৩৫ টাকা। ওই একই দূরত্বে অন্য ট্রেনের দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিটের ন্যূনতম ভাড়া ৩০ টাকা পড়ে।

দূরত্বদ্বিতীয় শ্রেণির ন্যূনতম ভাড়া (টাকায়)স্লিপার ক্লাসের ন্যূনতম ভাড়া (টাকায়)
১-১৫৩৫৪৬
৪৬-৫০৩৫৬৪
৯৬-১০০৫৭৯১
১৯৬-২০০৮৮১৪৩
২৯৬-৩০০১২৩২১০
৪৯১-৫০০১৮৪৩১২
৭৪১-৭৫০২৫৪৪৩৫
৯৯১-১০০০৩১৪৫২৮
১৪৭৬-১৫০০৪১৪৬৮৫
১৯৭৬-২০০০৫১৮৮৪২
২৯৫১-৩০০০৬৫৩১০৫২
৩৪৫১-৩৫০০৭২৬১১৫৬
৩৯৫১-৪০০০৭৯৫১২৬০
৪৪৫১-৪৫০০৮৬৫১৩৬৫
৪৯৫১-৫০০০৯৩৩১৪৬৯

১৫ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের স্লিপার ক্লাসের ন্যূনতম ভাড়া ৪৬ টাকা। ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের ক্ষেত্রে ৬৫ টাকা পড়বে ন্যূনতম ভাড়া। ৫০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রাপথে দ্বিতীয় শ্রেণির ভাড়া ৯৩৩ টাকা। ১৪৬৯ টাকা ভাড়া পড়বে স্লিপার ক্লাসে। এর উপর বাড়তি পণ্য ও পরিষেবা করও (GST) চাপবে।

শুধু তাই নয়, GST  ছাড়াও সুপারফাস্ট সারচার্জ, সংরক্ষণ ফি এবং অন্য খরচও যোগ হবে টিকিটের ভাড়ার উপর। কোনও ছাড়া মিলবে না। ভারতীয় রেলে বাচ্চাদের যে ভাড়া নেওয়া হয়, সেই হারেই ভাড়া কার্যকর হবে অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে। রেলকর্মীরা যে ছাড় এবং পাস পান, পদ অনুযায়ী, তার কার্যকর হবে। সেনা এবং আধাসেনা কর্মীরা যে সুযোগ সুবিধা পেতেন, আসল ভাড়ার নিরিখে তা কার্যকর থাকবে। টিকিট বাতিলের ক্ষেত্রে ভাড়ার টাকা ফেরত পাওয়ার নিয়মে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না।

দেশের সাধারণ মানুষ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় যাতায়াত করেন না যাঁরা, তাঁদের জন্যই আরামদায়ক এই ট্রেনযাত্রার ব্যবস্থা বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে পুশ অ্যান্ড পুল প্রযুক্তি থাকছে, অর্থাৎ যে কোনও দিক থেকেই ট্রেনটিকে চালানো যাবে। সামনে ও পিছনে দুটি ইঞ্জিন থাকছে। যাত্রা শেষে আলাদা করে ঘোরাতে হবে না। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩০ কিলোমিটার বেগে ছোটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে অমৃত ভারত এক্সপ্রেসকে।

অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে ২২টি কামরা থাকবে। এর মধ্যে ১২টি কামরা স্লিপার, আটটি জেনারেল দ্বিতীয় শ্রেণির এবং দু’টি গার্ড কামরা। রেলের তরফে জানা গিয়েছে, বন্দে ভারতের মতোই আড়াআড়ি বড় জানলা, এক একটি কামরার মধ্যে স্লাইডিং দরজা থাকবে।মেঝেয় থাকবে ফ্লুরোসেন্ট আলোর ব্যবস্থা।