ঢাকা : কান্না । চিৎকার । হাহাকার। এক মুহূর্তে ফুটফুটে ফুলগুলোর ঝলসে যাওয়া। হয়ত বাবা -মা কোনও দিন কোনও সমস্যার আঁচও গায়ে লাগতে দেননি ওদের। কিন্তু এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা মুহূর্তে ঝলসে দিল সব। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট জুড়ে এখন শুধুই কান্না আর হাহাকার। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর ছবি। কারও পুড়ো গিয়েছে গোটা শরীর। কারও হাত - পা বলে অবশিষ্ট নেই কিছুই। 'মেহরিন খুব নিষ্পাপ। ও সারা দিন পড়াশোনা করে। ওর দুই হাত ও মুখ পুড়ে গেছে।'ডুকরে উঠছেন চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়ার বাবা। 'মা গো আমার যে সারা গা জ্বলে যাচ্ছে' চিৎকার করছে ছোট্ট পড়ুয়া। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশুগুলো। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এখনও অভিভাবকদের ঢল। সন্তান বাঁচবে তো ? এই উৎকণ্ঠাই চোখে মুখে। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন,ভিড় বাড়লে রোগীর ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে, বার্ন ইনজুরি যে মারাত্মক। সোমবার থেকেই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে ইমার্জেন্সি হটলাইন চালু করা হয়েছে। জানিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। হটলাইন নম্বর- ০১৯৪৯০৪৩৬৯৭।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স পোস্টে লিখেছেন, 'ঢাকায় বিমান ভেঙে পড়ুয়া-সহ এতজনের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা, আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। বাংলাদেশকে যে কোনও রকম সাহায্য়ে প্রস্তুত ভারত'
ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে একাধিক বিল্ডিং। প্রশিক্ষণ বিমানটি ভেঙে পড়ে একটি তিনতলা বিল্ডিংয়ের ওপর। বি ডি নিউজ সূত্রের খবর, বিমানটি ভেঙে পড়ার পর তাতে আগুন ধরে যায়। অনেকটা আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার মতোই। দুর্ঘটনায় বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। প্রথম আলো সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত পর্যন্ত মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন মারা গিয়েছেন। আহতের সংখ্যা ১৭১ এর আশেপাশে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর F-7 BGI মডেলের। ২০১১ সালে চিনের সঙ্গে ১৬টি যুদ্ধবিমান সরবরাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। ২০১৩ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে যুদ্ধবিমানগুলো চিন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মোট ৩৬টি এফ-৭ যুদ্ধবিমান রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই এফ-৭ বিজিআই ভ্যারিয়েন্ট। এই এফ-৭ বিজিআই মূলত বাংলাদেশের জন্যই আলাদাভাবে তৈরি করেছিল চিন।