কলকাতা : শান্তি ফেরার নামই নেই বাংলাদেশে । আবার ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটল বাংলাদেশে। একেবারে প্রকাশ্য রাস্তায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। নিহত ছাত্রের নাম অর্ণব কুমার সরকার। অর্ণবের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল বলে জানা যায়নি। একেবারে চায়ের দোকানের সামনেই খুন হয়ে গেলেন বছর ছাব্বিশের যুবক।
শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে খুলনার তেঁতুলতলা মোড়ে। প্রথম আলো সূত্রে খবর, অর্ণব খুলনার সোনাডাঙ্গার আবু আহম্মেদ সড়কের নীতীশ চন্দ্র সরকারের ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্টের ছাত্র ছিলেন তিনি। এমবিএ করছিলেন। প্রথম আলো সূত্রে খবর, এদিন রাতে তেঁতুলতলা মোড়ে একটি চায়ের দোকানের সামনে চা খাচ্ছিলেন তিনি। মোটরসাইকেলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে চড়ে আসে আততায়ীরা। একেবারে সামনে থেকে অর্ণবের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। লুটিয়ে পড়েন ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরাই অর্ণবকে তড়িঘড়ি স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রের খবর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খুনে তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। পুলিশ এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। তবে বাংলাদেশের ৭১ টিভির প্রতিবেদনে দাবি, গোয়েন্দাসূত্রের খবর, টার্গেট আসলে অর্ণব ছিলেন না। ছিলেন অন্য কেউ। প্রথমে দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তারপর সামনে এসে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়।
গত বছরই বাংলাদেশের খাগড়াছড়িতে বাড়িতে ঢুকে খুন করা এক হিন্দু মহিলাকে। নিহত মহিলার নাম চুমকিরানি দাস। তিনি খাগড়াছড়ির সনাতন জাগরণ মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক প্রান্ত দাসের মা। তারপর ত্রাসের দেশ বাংলাদেশে মন্দিরের মধ্যেই খুন হয়ে যান পুরোহিত। এদিকে সমাজমাধ্যমে বাংলদেশের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে, চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর সমর্থন করার জন্যই খুন করা হয়নি তো অর্ণবকে? সংখ্যালঘু বলেই বলি হতে হল না তো তাঁকে ? যদিও এর কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। অর্ণবের পরিবারেরও দাবি, তিনি কোনও রাজনৈতিক দল, সংগঠন, বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য ছিলেন না। এক্ষেত্রে প্রকট হয়ে উঠছে, ভুলক্রমে অর্ণবের খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
আরও পড়ুন :
'ময়নাতদন্তের আগে জীবাণুমুক্ত করা হয়নি ছুরি-কাঁচি, অ্যাপ্রন বদলাননি ডোমও, তখনই কি নষ্ট হয়ে যায় প্রমাণ?