নয়াদিল্লি: ধর্ম অবমাননার মিথ্যে অভিযোগে বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলায় ৬৯ বছর বয়সী এক হিন্দুকে নির্মমভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে বাবার প্রাণ বাঁচাতে দুষ্কৃতীদের থামতে অনুরোধ জানায় তার সন্তান। রেয়াত করা হয়নি তাঁকেও। আক্রমণ চালানো হয়ে বৃদ্ধের ছেলের উপরেও। ওই বৃদ্ধের নাম পরেশ চন্দ্র শীল। পেশায় তিনি এক নাপিত। মঙ্গলবার এমনটাই জানাল হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিস (Human Rights Congress for Bangladesh Minorities).

আরও পড়ুন, ময়নায়তদন্তের পর কালীগঞ্জ ফিরল ছোট্ট তামান্নার নিথর দেহ, 'শেষ ইচ্ছেয় সে পরিযায়ী বাবাকে বলেছিল, এবার ঘরে ফিরলে একটা ক্লিপ কিনে দিও..'

মূলত, মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত সপ্তাহে। ২০ জুন শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ, আবদুল আজিজ নামে এক ব্যক্তি পরেশ চন্দ্র শীলের সেলুনে চুল কাটাতে আসেন। এরপরেই ঘটনা মোড় নেয়। আবদুল আজিজের অভিযোগ ইসলামের নবির (Islam's Prophet) একজন অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে করার বিষয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন ঘটনার সময় সাক্ষী ছিলেন বছর ২৯-র নাজমূল ইসলাম। 

তবে HRCBM এর দাবি অনুযায়ী, পরেশ চন্দ্র শীলের পুত্রবধু দীপ্তি রানি রায় একটি ভিডিওতে এই ঘটনার সম্পূর্ণ অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দীপ্তি ওই ভিডিওতে দাবি তুলেছেন,আবদুল আজিজ,  তাঁর শ্বশুর মশাইয়ের সেলুনে চুল কাটাতে আসেন। কিন্তু চুল কাটানোর পর টাকা দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। এরপর তিনি সেলুন ছেড়ে বেরিয়ে যান। পরে তিনি ফিরে ধর্ম অবমাননার মিথ্যে অভিযোগ নিয়ে সদলবলে ওই সেলুন ফিরে আসেন। এবং মিথ্যে অভিযোগের ভিত্তিতেই হামলা চালান তিনি। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই অভিযোগের পর একের পর এক প্রশ্ন উঠে এসেছে বলে দাবি হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিসের। 

প্রসঙ্গত, গত বছর হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার শুরু হয়। গ্রেফতার করা হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণকে। বহু বাংলাদেশি প্রাণ বাঁচাতে অবৈধভাবেই ভারতে প্রবেশ করে। ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার চলাকালীন একের পর এক অত্যাচারের খবর আসে। এমন কি সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে রবিঠাকুরের বসতবাড়িতেও হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয়, জানালা, দরজা। সিরাজগঞ্জের ওই ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও দিয়েছিলেন খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এই আবহেই গতকাল মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সঙ্গে দেখা করেন নয়া দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের  হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লা।

তথ্যসূত্র: IANS