নয়াদিল্লি: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্য়ুনাল। ANI সূত্রে দাবি, ফের শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে ফের নতুন করে নোট পাঠাল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

Continues below advertisement


রবিবার বাংলাদেশের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন যে, হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ঢাকা ফের ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছে। এর আগে বাংলাদেশের আদালত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে গত ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশের আদালত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ। 


২০২৪-এর জুলাই থেকে বাংলাদেশে শুরু হওয়া কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চরম আকার নেয় অগাস্ট মাসে। অগ্নিগর্ভ পদ্মাপাড়ের দেশে শয়ে শয়ে মৃত্যু হয়। দেশজুড়ে কার্যত নৈরাজ্য চলে। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপরই ঢাকা চলে যায় আন্দোলনকারীদের দখলে। ভেঙে ফেলা হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মূর্তি। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ঢুকে তাণ্ডব, লুঠপাট চালায়  আন্দোলনকারীরা। সেই থেকে ভারতেই রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কমল। এর আগেও ইউনূস প্রশাসন দুজনকেই বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চিঠি লিখেছে। এবার ফের নোট পাঠানো হয় বাংলাদেশের তরফে। ভারত তার আনুষ্ঠানিক জবাব না দিলেও হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, ' শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে ভারত অবগত। পাশের দেশ হিসেবে, ভারত বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যার মধ্যে রয়েছে শান্তি, গণতন্ত্র, এবং স্থিতিশীলতা। আমরা সর্বদা এই লক্ষ্যে সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখব' । 

গত ১৭ নভেম্বর উস্কানিমূলক বক্তব্য, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্য়ার নির্দেশ , রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যার আদেশ, রাজধানী চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ৬ জনকে গুলি হত্য়ার নির্দেশ ও আশুলিয়ায় ৬ জনকে পুড়িয়ে খুন, এই ৫ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাজা দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার , বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মামুদ ও বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর বেঞ্চ। এবার প্রত্যর্পণের দাবিতে  ভারত কী জবাব দেবে, আদৌ কি মুখ খুলবে বিদেশমন্ত্রক, না কি নীরবতাই বজায় রাখবে , সেটাই দেখার।