Continues below advertisement

শিবরাত্রির রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। জ্ঞান ফিরল যখন, তখন একদিন গড়িয়ে পরের দিন বিকেল হয়ে গিয়েছে। উঠেই ডান উরুতে তীব্র ব্যথা । বুঝতে পারছিলেন কেউ যেন ছুঁচ ফুটিয়ে দিয়েছে । কিন্তু ওঠার অবস্থা ছিল না। শরীর নেতিয়ে পড়ছিল ক্রমাগত। ধীরে ধীরে অবস্থার আরও অবনতি হয়। এরপর আত্তিবেলে সরকারি হাসপাতালে যান তিনি। সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় অক্সফোর্ড হাসপাতালে। সেখানে তার রক্তে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট দেখে চমকে ওঠেন চিকিৎসকরা। রক্তে পাওয়া যায় ভয়ঙ্কর মাত্রায় পারদ। চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন প্রাণপণ। কিন্তু পারেননি। তবে জীবনের শেষবেলাতে পুলিশের কাছে ভয়ঙ্কর কথা জানিয়ে গিয়েছেন বিদ্যা নামে ওই ব্যক্তি।

পুলিশকে তিনি জানান, তাঁর স্বামী শরীরে পারদের ইঞ্জেকশন পুশ করেছিল। বেঙ্গালুরুর ওই মহিলা যা জানিয়েছেন, তা শিরদাঁড়ায় শীতল স্রোত বইয়ে দেবে। তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, তাঁর স্বামী ল্যাব টেকনিশিয়ান এক দম্পতির থেকে  ক্লোরোফর্ম, সিরিঞ্জ এবং ধাতব যন্ত্রপাতি জোগাড় করেছিলেন। দাবি, এসএলএন ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি ল্যাব ছিল। সেখানে এক দম্পতি ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। তাদের কাছ থেকেই ওই মহিলার স্বামী ক্লোরোফর্ম, সিরিঞ্জ এবং মার্কারি জোগাড় করে। বিদ্যা তার বিবৃতিতে আরও বলেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ঘুমাতে যান এবং পরের দিন সন্ধ্যায় জ্ঞান ফিরে পান। এর কিছুক্ষণ পরেই, তিনি তার ডান উরুতে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। বুঝতে পারেন তাঁকে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে। তার পাও ফুলে যায় । হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছিল। তার অবস্থার অবনতি হলে। গত ৭ মার্চ তিনি আত্তিবেলে সরকারি হাসপাতালে যান। এরপর তাকে অক্সফোর্ড হাসপাতালে রেফার করা হয়। মহিলার দাবি,তাঁর স্বামী বাসভরাজ, তাঁর বাবা মারিস্বামচারীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই কাজ করেন। মহিলার দাবি, স্বামী তাঁকে বারবার  "পাগল" সম্বোধন করতেন। এই দম্পতির চার বছরের একটি সন্তান রয়েছে।

Continues below advertisement

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসার পর বিদ্যাকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই ডাক্তাররা তাঁকে জানান যে শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে বিষ । তাঁর কিডনি সহ একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত। ডায়ালাইসিসও করা হয় তাঁর। কিন্তু অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। নয় মাস ধরে যমে-মানুষে টানাটানি হয়। কিন্তু ঘটনার ৯ মাস পর নভেম্বরে বিদ্যা মারা যান।