পটনা : ভয়ঙ্কর । গা শিউরে ওঠা। মর্মান্তিক। কোনও  বিশেষণই যথেষ্ট নয় বিহারের এই দুর্ঘটনার জন্য। বেপরোয়া গতি শুধু প্রাণ কেড়ে নিল , তাই নয়, ধাক্কায় মারার পর ঘটল আরও মর্মান্তিক ঘটনা। বিহারের সহরসা-য় এক দম্পতিকে ধাক্কা মারে দ্রুত গতিতে আসা একটি গাড়ে।  এতটাই গতি ছিল গাড়ির, ঘটনাস্থলেই মারা যান দম্পতি। গাড়িতে আটকে যায় বৃদ্ধের দেহ। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও গাড়ি থামাননি চালক। দেহ গাড়ির চাকায় টানতে টানতে কয়েককিলোমিটার এগিয়ে যায়। এরপর আরও ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটায় চালক। বেশ কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর সে মৃতদেহটিকে গাড়ির ডিকিতে ভরে নেয়। তারপর একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পুঁতে দেয় । তার পর থেকেই আর চালকের খোঁজ নেই। 

কোথায় মিলল দেহ?           

পুলিশ সূত্রের খবর, শ্যামাদেবী ও তাঁর স্বামী ভরত রাম,  এদিন ভোরে বেরিয়েছিলেন মর্নিং ওয়াকে। ভাবতেই পারননি আর ফেরা হবে না।  রাস্তার ধার দিয়েই হাঁটছিলেন তাঁরা। ঠিক তখনই দ্রুত গতিতে আসা একটি গাড়ি তাদের ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে মারা যান দুজনেই।  গাড়িটি হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে টেনে নিয়ে যায় দুটি দেহ। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটার দূরে স্ত্রীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে খোঁজ মেলেনি স্বামীর দেহের।  এরপর পুলিশ দ্বিতীয় দিন ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে বৃদ্ধের মৃতদেহ খুঁজে পায়। সিসিটিভির সাহায্যে গাড়ির শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। সেটিয়ে বাজেয়াপ্তও করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে পুলিশ নিশ্চিত, প্রায় ২০ কিলোমিটার দেহটি টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছিল গাড়িটি।         

কোথায় গেল চালক?            

পুলিশ জানায়, এত কিলোমিটার মৃতদেহটিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার পর গাড়ির চালক মৃত বৃদ্ধর দেহটি পুঁতে দেয়।  পুলিশ তার বন্ধু সুনীল কুমারকে গ্রেফতার করেছে।  তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চালকের সম্পর্কে তথ্য বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।