নয়াদিল্লি: এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, অর্থাৎ বার্ড ফ্লু নিয়ে সতর্কতা জারি হল বিহারে। বিহারের দ্বারভাঙা জেলায় দলে দলে মরা কাক পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে সন্দেহ জাগে। এত কাকের মৃত্যুর কারণ জানতে পরীক্ষা হয়। আর তাতেই বার্ড ফ্লু সংক্রমণ ধরা পড়েছে। (Bird Flu Alert in Bihar)

Continues below advertisement

দ্বারভাঙার ভীগো এলাকায় লাগাতার কাকের মৃত্যু ঘটছিল। প্রায় রোজই মরা কাক পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিল ইতিউতি। পরিস্থিতি দেখে সন্দেহ জাগলে নমুনা সংগ্রহ করে ভোপালের ল্যাবে পাঠানো হয়। সেই রিপোর্ট হাতে পেতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। বার্ড ফ্লু সংক্রমণ ধরা পড়েছে। (Bird Flu in Bihar)

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, শুধুমাত্র ভীগোতেই হাজার হাজার কাক মারা গিয়েছে। আশপাশের এলাকাতেও ইতিউতি মরা কাক দেখা গিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কাক মারা গিয়েছে সেখানে। জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে জায়গায় জায়গায়। মাটি খুঁড়ে পুঁতে দেওয়া হচ্ছে মৃত কাকগুলিকে।

Continues below advertisement

এই মুহূর্তে স্থানীয় পৌরসভা নিরাপদ জায়গায় মরা কাক সরিয়ে ফেলার কাজে হাত দিয়েছে। ওই এলাকার বিভিন্ন পোলট্রি ফার্মে হাজির হচ্ছেন পশুচিকিৎসকদের দল। চলছে সেরোলজিক্যাল টেস্টিং। এলাকাবাসীকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। 

Influenze A ভাইরাস থেকে বার্ড ফ্লু হয়। অতিরিক্ত সংক্রামক H5N1 প্রজাতির দাপটই সবচেয়ে বেশি। প্রাকৃতিক ভাবেই পাখির শরীরে বাসা বাঁধে ওই রোগ। মূলত পাখির শরীরে বাসা বাঁধলেও, স্তন্যপায়ী প্রাণী, মানুষের শরীরেও বাসা বাঁধতে পারে সংক্রমণ। কিছু ক্ষেত্রেই এমন ঘটে যদিও, তবে বার্ড ফ্লু মানুষের জন্য গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে, এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারে। 

সংক্রমিত পাখি ও পশুর মুখের লালা, মিউকাস, মল থেকেও বার্ড ফ্লু ছড়াতে পারে। অসুস্থ বা মৃত পাখির সংস্পর্শে গেলে, সংক্রমণ যেখান থেকে ছড়িয়েছে, সেখানে পা রাখলেও নেমে আসতে পারে বিপদ। সরাসরি পাখির শরীর থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে সংক্রমণ। খাঁচা, মাটি, জল এমনকি ডিম, পোলট্রি সামগ্রী থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। 

মানুষের ক্ষেত্রে চোখ, নাক, মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে ভাইরাস। মরশুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা বার্ড ফ্লু রুখতে পারে না। বার্ড ফ্লু-র উপসর্গ হল- জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পেশির যন্ত্রণা, ক্লান্তি, মাথার যন্ত্রণা, কনজাঙ্কটিভাইটিস। পরিস্থিতি গুরুতর হলে নিউমোনিয়া, মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওর-ও হতে পারে। সাধারণ ফ্লুর চেয়ে বার্ড ফ্লু শরীরকে দ্রুত কাবু করে ফেলে। বিশেষ করে প্রবীণদের নিয়ে ঝুঁকি বেশি।