কলকাতা : দেশের একাধিক রাজ্যে বার্ড ফ্লু আতঙ্ক। ভয়ে অন্যান্য রাজ্যও। অন্ধ্রপ্রদেশের পরপর মুরগি মারা যাওয়ার পরই আতঙ্ক দানা বাঁধে। দেখা যায় অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত মুরগিরা। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পোলট্রিগুলিতে। তেলেঙ্গানার পর মহারাষ্ট্রতেও পরপর মুরগি মারা যায়। সংক্রমণ রুখতে মারা হয়েছে ৭ হাজারেরও বেশি মুরগি। হাজারে হাজারে ডিম নষ্ট করা হয়েছে। সতর্ক করা হচ্ছে চিকেন-প্রেমীদের। এরই মধ্যে আরও আতঙ্ক ছড়াল ।
বার্ড ফ্লু আতঙ্কের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন স্টোরেজে ঘুরে ঘুরে খতিয়ে পরীক্ষা করে দেখছিলেন খাদ্যের গুণমান। তখনই বেরিয়ে পড়ে এই কেলেঙ্কারি। ১৩ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তে একটি কোল্ডস্টোরেজে ধরা পড়ল কাঁড়ি কাঁড়ি পচা মাংস, যা কিনা সরবরাহ করা হচ্ছিল শহরের নাম করা হোটেল রেস্টুরেন্ট ও পানশালাগুলিতে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ বাজেয়াপ্ত করে ৫০০ কেজি পচা মুরগির মাংস। কয়েক সপ্তাহ ধরে মজুত করে রাখা হয়েছিল এই মাংস। তা ধীরে ধীরে সরবরাহ করা হচ্ছিল সেকেন্দ্রাবাদের আন্না নগর এলাকার আশেপাশের পানশালাগুলিতে। বৃহস্পতিবার, খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে বেরিয়ে এখান থেকে ৫০০ কেজি পচা মুরগির মাংস বাজেয়াপ্ত করেন।
এমনটা হতে পারে, আগে থেকেই খবর ছিল সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে। সূত্রের খবরের ভিত্তিতেই অভিযান চালান তাঁরা। তেলঙ্গানা এবং অন্ধ্র প্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্যে বার্ড ফ্লু সংক্রমণ বাড়ছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভয়। কারণ মুরগির মাংস আর ডিম, বহু মানুষের রোজকার খাবার, বিশেষত শিশুদের প্রিয় খাবার। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ধরনের ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।
বার্ড ফ্লু আতঙ্কের মধ্যে, দেবরকোন্ডার কাছে পিএ পল্লির কাছে আক্কাম্পল্লি ব্যালেন্সিং জলাধারে বিপুল সংখ্যক মৃত মুরগি পাওয়া গিয়েছে । এই জলাধার আবার হায়দরাবাদ এবং নালগোন্ডার পানীয় এবং সেচের জলের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ভাসমান মৃত মুরগির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণের রাজ্যে বার্ড ফ্লু আতঙ্কে ভয় বাড়ছে এ রাজ্যেও। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করছেন, অযথা আতঙ্ক করে লাভ নেই। কারণ, মানুষের থেকে মানুষের বার্ড ফ্লু হয় না। আর মাংস বা ডিম, ভাল করে রান্না করে খেলে বার্ড ফ্লু আক্রান্ত হওয়ার ভয় নেই। তবে যাঁরা মাংসের দোকানে কাজ করেন তাঁদের কিছুটা ভয় আছে বৈকি !বার্ড আতঙ্কের প্রভাব এখন থেকেই পড়তে শুরু করেছে বাংলার বাজারে।