দিল্লি থেকে বাগডোগরাগামী বিমানে বোমাতঙ্ক। রবিবার সকাল সকাল এই খবরে একেবারে হুলুস্থূল কাণ্ড। ১৮ জানুয়ারি  ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি বিমান দিল্লি থেকে বাগডোগরা যাচ্ছিল। তখনই বিমানে বোমা থাকার খবর পাওয়া যায়। সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে বিমানটিকে লখনউ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

বাথরুমে টিস্যু পেপারে পাওয়া গেল বোমার হুমকি ! 

বিমানটির বাথরুমে টিস্যু পেপারে লেখা ছিল ভেতরে বোমা আছে। এই টিস্যু পেপার এক যাত্রী দেখেন এবং তিনি সঙ্গে সঙ্গে ক্রু মেম্বারদের খবর দেন। এরপর পাইলট জরুরি অবতরণের অনুমতি চান। লখনউয়ে জরুরি অবতরণের পর বিমানের আনাচে-কানাচে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

বিমানে ২৩০ জন যাত্রী ছিলেন, সবাই সুরক্ষিত

লখনউ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তা কর্মীরা বিমানটিকে ঘিরে ফেলেন। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং CISF টিম তদন্ত শুরু করেছে। বিমানে ৮ জন শিশু সহ ২৩০ জন যাত্রী, ৬ জন ক্রু মেম্বার এবং ২ জন পাইলট সহ মোট ২৩৮ জন ছিলেন। চেকিংয়ের পর সকলকেই নিরাপদে নামানো হয়েছে। ভিতরে সবার লাগেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সব যাত্রীর ব্যাগ স্ক্যান করার পরে, যাত্রীদের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। 

২ মাস আগে ৩টি বিমানের জরুরি অবতরণ হয়েছিল

এর আগে গত ৭ই নভেম্বর, লখনউ বিমানবন্দরে ৩টি বিমানের জরুরি অবতরণ করাতে হয়েছিল। তিনটি বিমানই ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের। একটি বিমান দিল্লি থেকে বারাণসী যাচ্ছিল। দ্বিতীয়টি প্রয়াগরাজ যাচ্ছিল এবং তৃতীয়টি মুম্বই থেকে প্রয়াগরাজ যাচ্ছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণেই এই তিন বিমানকে জরুরি অবতরণ করাতে হয়। বারাণসীগামী বিমানের পাইলট বারাণসীর কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই খবর পান যে এখানে আবহাওয়া খারাপ। বিমানটিকে লখনউয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিমানটি সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে লখনউতে অবতরণ করে।

২টি ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি পাওয়া গিয়েছিল

গত ৩০  অক্টোবর, ( ২০২৪ ) -এ ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইটে বোমার হুমকি পাওয়া যায়। নিরাপত্তা কর্মীরা বিমানগুলোকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তল্লাশি চালায়।  কিন্তু সেখানে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।                        

এদিকে বিমান-বিভ্রাটকাণ্ডে এবার ইন্ডিগো-কে ২২ কোটি ২০ লক্ষ টাকার জরিমানা করল  উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গত ডিসেম্বরে ইন্ডিগোর পরিষেবা  ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সব মিলিয়ে ২হাজার ৫০৭টি বিমানের উড়ান বাতিল করা হয়। বাতিলের পাশাপাশি দেরিতেও ওড়ে ১হাজার ৮৫২টি বিমান। তদন্তে ডিজিসিএ দেখে, ইচ্ছাকৃত ভাবে ইন্ডিগোর কর্মীদের কাজের সময়সূচি এমন ভাবে নির্ধারণ করা হত যাতে তাঁদের দিয়ে সবথেকে বেশি কাজ করানো যায়। এছাড়াও রস্টার সংক্রান্ত অনেক সমস্যা, কাজের অতিরিক্ত চাপেই পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।