নয়াদিল্লি : কিছুক্ষণের মধ্যে বাজেট পেশ করার কথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার। তার আগে একের পর এক বোমা হামলার হুমলি এল দিল্লি বিধানসভায়। এমনই খবর ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। সকালে ৭টা ২৮ মিনিট নাগাদ প্রথম হুমকি মেল আসে। এরপরই আরও একটি মেল পাঠানো হয়। এবার অধ্যক্ষ বিজেন্দ্র গুপ্তাকে। সকাল ৭টা ৪৯ মিনিট নাগাদ। পর পর হুমকি মেল আসায় সেখানে পৌঁছে যায় পুলিশ। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। তদন্ত চলছে।
ই-মেলে একাধিক হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বকে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন- লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও ক্যাবিনেট মন্ত্রী মণজিন্দর সিং সিরষা। এই ই-মেলের উৎস কোথায় তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লির বিভিন্ন স্কুলে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল। স্কুলে বোমাতঙ্ক ঘিরে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে অভিভাবকদের মধ্যে। যার জেরে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয় । সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বড় বড় শহরে বারবার এই ধরনের ঘটনা সামনে আসছে। রাজধানীর বুকে থাকা একাধিক নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোমা হুমকি আসে।
দেশের একাধিক মেট্রো শহরে আকছার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। যার জেরে স্কুল প্রশাসন এবং অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি সকালেও রাজধানীর পাঁচটি স্কুলে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ই-মেলে বোমার হুমকি আসে স্কুলগুলিতে। ওই ঘটনায় যে স্কুলগুলিকে টার্গেট করা হয়েছিল তার মধ্যে ছিল দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের লরেটো কনভেন্ট, চিত্তরঞ্জন পার্কের ডন বসকো স্কুল এবং আনন্দ নিকেতন ও দ্বারকার কারমেল কনভেন্ট ক্যাম্পাস।তার একদিন আগে, ২৮ জানুয়ারি, দ্বারকা আদালত চত্বরেও বোমা হামলার হুমকি পাওয়া যায়, যা পরবর্তীকালে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। দিল্লি পুলিশ কর্তারা আগেও বলেছিলেন যে, বারবার হুমকির উৎস খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত চলছে। সতর্ক করে দিয়েছিল যে, এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লি হাইকোর্টে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বোমাতঙ্কের জেরে খালি করা হয় দিল্লি হাইকোর্ট। বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দিয়ে আসে ই-মেল। গোটা দিল্লি হাইকোর্ট খালি করে চলে তল্লাশি। শুনানি চলাকালীন এজলাস থেকে উঠে চলে যান বিচারপতিরা। বোমাতঙ্কের জেরে এজলাস ছাড়ে বাদি-বিবাদী দু'পক্ষ। হাইকোর্ট চত্বরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিচারপতি ও কৌঁসুলিরা। দিল্লি হাইকোর্টে তখনকার মতো সমস্ত শুনানি বন্ধ হয়ে যায়। কোর্টরুম ৩ -এ তিনটে বোমা রাখা আছে এমনটাই বলা হয় ওই হুমকি ইমেলে। বিকেল ৩টের সময় বোমা বিস্ফোরণ হবে এমনটাই হুমকি দেওয়া হয়।
