কোয়েট্টা: ফের তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল পাকিস্তানের বালুচিস্তান। কোয়েট্টায় তীব্র শব্দে গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটল। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন। কোয়েট্টায় ফ্রন্টিয়ার কনস্ট্যাবুলারি সদর দফতরের কাছে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। (Quetta Blast)

মঙ্গলবার দুপুরে তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কোয়েট্টা। সিসিটিভি ক্যামেরায় যে দৃশ্য সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে পর পরা গাড়ি, মোটর সাইকেল ছুটে যাচ্ছে। সেই সময় হঠাৎই তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে একটি গাড়িতে। আগুনের লেলিহান শিখায় ঢেকে যায় চারিদিক। পিছনের একটি গাড়িও সেই আগুনে গ্রাসে চলে যায়। ধোঁয়ায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না চারপাশের। শুধুমাত্র চিৎকার, হাহাকার শোনা যাচ্ছিল। (Balochistan Blast)

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এত জোরাল বিস্ফোরণ হয় যে মডেল টাউনেও তীব্র শব্দ শোনা যায়। ওই এলাকা এবং আশেপাশের এলাকার বাড়িগুলির কাচ ঝনঝন করে ভেঙে পড়ে। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণের পর গুলির শব্দও শোনা যায় বলে খবর। উত্তেজনা ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। বিস্ফোরণস্থল এবং সংলগ্ন এলাকা খালি করে দেওয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।

কোয়েট্টার সিনিয়র পুলিশ সুপার মহম্মদ বালোচ জানিয়েছেন, যে গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার মধ্যে বিস্ফোরক রাখা ছিল। গাড়িটি মডেল টাউন থেকে হালি রোডের দিকে বাঁক নেয়। সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিললেও, হতাহত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। 

বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। এখনও পর্যন্ত কোনও সংস্থা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি যদিও। তবে এর নেপথ্যে বালুচিস্তানের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনের হাত দেখছেন অনেকে। কারণ চলতি বছরের গোড়া থেকে এখনও পর্যন্ত বার বার নাশকতার সাক্ষী হয়েছে বালুচিস্তান। এদিন ফের তার পুনরাবৃত্তি হল।