নয়াদিল্লি:  ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নতুন অভিযোগ। জনবিন্যাসের পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চতর কমিটি নাগরিকদের খুঁটিনাটি তথ্য চাইছে বলে অভিযোগ। দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাছে সেই মর্মে আবেদন যাচ্ছে, যাতে ধর্মবিশ্বাসের নিরিখে গত ১৫ বছরের তথ্য চাওয়া হয়েছে। শিশুর জন্ম, স্কুলে ভর্তি, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন এবং সম্পত্তি কেনাবেচার তথ্যও চাওয়া হচ্ছে বলে খবর। সেই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, এর নেপথ্যে ‘অশুভ উদ্দেশ্য’ রয়েছে। পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগও উঠছে। (Religion Wise Data)

Continues below advertisement

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ জনবিন্যাস পরিবর্তন সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ওই কমিটির (HLCDC)মাথায় রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকর। চলতি বছরের ২৬ মে HLCDC গঠন করা হয়। ‘দ্য হিন্দু’ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের কাছে দীর্ঘ প্রশ্নমালা পাঠানো হয়েছে, যার জবাব দিতে রাজ্যগুলি হিমশিম খাচ্ছে রাজ্যগুলি। কারণ এতদিন ধর্মবিশ্বাস সংক্রান্ত তথ্যাদি আলাদা ভাবে সংরক্ষণ করাই হতো না। (Centre's Demography Panel)

‘দ্য হিন্দু’ জানিয়েছে, ৩৫ পয়েন্টের প্রশ্নমালা পাঠানো হয়েছে রাজ্যগুলিকে। ধর্মবিশ্বাসের নিরিখে গত ১৫ বছরে কত সংখ্যক শিশুর জন্ম হয়েছে, কোন ধর্মের মানুষের নামে গত গাড়ি নথিভুক্ত রয়েছে, কোন ধর্মের কত ছেলেমেয়ে স্কুলে ভর্তি হচ্ছে, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা কারা কত পাচ্ছে, কারা কত সম্পত্তির লেনদেন করছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড করানোর জিগির বেশি দেখা গেলে, দিতে বলা হয়েছে সেই তথ্যও। পাশাপাশি, চাওয়া হয়েছে তফসিলি জনজাতিদের মধ্যে ধর্মান্তরণ নিয়ে তদন্তকারীদের মূল্যায়ন। চাওয়া হয়েছে কমিশনের রিপোর্ট, সক্রিয় বন্দিশিবিরের তথ্যসমূহও। 

Continues below advertisement

রাজ্য সরকারের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ‘দ্য হিন্দু’ জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে উত্তর দিতে পারছেন না তাঁঁরা। কার সংবিধানের নিরপেক্ষ কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে ধর্মের নিরিখে পৃথক ভাবে তথ্য সংগ্রহের রীতি ছিল না এতদিন। শিশুর জন্ম নথিভুক্ত করার সময় ধর্মবিশ্বাসের যে উল্লেখ থাকে শংসাপত্রে। শুধু সেই তথ্যই রয়েছে তাঁদের কাছে। বৈধ কাজগপত্র না থাকা যে সমস্ত বেআইনি অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে, সেই তথ্যই রয়েছে কিছু। কিন্তু সেসব বাদ দিলে ধর্মের নিরিখে আর কোনও তথ্য নেই হাতে। অথচ রাজ্যগুলির কাছে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, পার্সি, বৌদ্ধ, সব ধর্মের পৃথক পৃথক তথ্য চাওয়া হচ্ছে।

HLCDC-র পাঠানো প্রশ্নমালার কিছু বিষয় বিশেষ ভাবে নজর কাড়ছে, যাতে বলা রয়েছে, ‘জন্মহারের সঙ্গে স্কুলে ভর্তির হার সামঞ্জস্যহীন। যে যে জেলায় এমন প্রবণতা চোখে পড়ছে, তা নিয়ে বিশদ তথ্য এবং কারণ জানাতে হবে’। গত ১৫ বছরে জেলাগুলিতে কত সংখ্যক মন্দির, মসজিদ, গির্জা এবং অন্য ধর্মস্থানের নির্মাণ হয়েছে, চাওয়া হয়েছে সেই তথ্যও। সেগুলি শনাক্ত করতে GIS ম্যাপিং বা অন্য প্রযুক্তির সাহায্য় নিতে বলা হয়েছে।  জন্মের শংসাপত্র বা উত্তরাধিকারসবত্রে প্রাপ্ত নথি নেই যাঁদের, তাঁদের তথ্য চাওয়া হয়েছে যেমন, ধর্মীয় বিন্যাস পরিবর্তন হয়ে থাকলে জেলা ভিত্তিক তথ্যও দিতে বলা হয়েছে আলাদা করে। এব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে শহরাঞ্চল, শিল্পাঞ্চল, সীমান্তবর্তী এলাকা, জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলির উপর। রাজ্য সরকারের সমীক্ষা, তদন্তকারীদের মূল্যায়ন, শ্বেতপত্রও চাওয়া হয়েছে।

এর আগে, ২০০৬ সালে সাচার কমিটির তরফে বিভিন্ন সুপারিশ করা হলে, তার তীব্র বিরোধিতা করেছিল তদানীন্তন বিরোধী দল বিজেপি। তাদের যুক্তি ছিল, এতে ধর্মীয় সংরক্ষণের দাবি আরও জোর পায়, বিভাজন সৃষ্টি হয় সমাজে। মুসলিমদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাগত অবস্থান জানতে ২০০৫ সালে সাচার কমিটি তৈরি করে তদানীন্তন কংগ্রেস সরকার, যাতে তীব্র আপত্তি তুলেছিল বিজেপি। তাই ধর্মবিশ্বাসের নিরিখে তথ্য চাওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ। তিনি লেখেন, ‘এই কমিটির উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে অশুভ। তাদের পূর্বনির্ধারিত পক্ষপাতদুষ্টতা ফুটে উঠছে। এব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে ওই রিপোর্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই’। কেন্দ্রের তরফে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।