নয়াদিল্লি: মহাকাশে তীব্র বিস্ফোরণ। গুড়িয়ে গেল আমেরিকার স্যাটেলাইট। ঠান্ডাযুদ্ধের সময় চরবৃত্তির জন্য মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল সেটিকে। এত বছর পর হঠাৎ তীব্র বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে গেল সেটি। অথচ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে আগাম কোনও ইঙ্গিতই পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর আকাশে হঠাৎই তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেটি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। কী করে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। (Satellite Explosion in Space)

Continues below advertisement

আমেরিকার ওই ‘স্পাই স্যাটেলাইটে’র নাম USA 32. সেটি Farrah 3 নামেও পরিচিত। ১৯৮৮ সালে সেটি মহাকাশে পাঠায় ন্যাশনাল রিকন্যাস্যান্স অফিস (NRO). সেটির কাজকর্ম এতদিন গোপনই ছিল। চলতি বছরের শুরুতে জানা যায়, সোভিয়েত রেডার এবং রেজিও সঙ্কেতে আড়িপাতার কাজে নিযুক্ত ছিল USA 32. নলাকার স্যাটেলাইটটি দেখতে কৌটোর মতো ছিল। একদশক আগেই সেটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিল। নীরবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছিল এতদিন। (USA 32 Satellite Explosion)

আরও পড়ুন: ‘SIR বেআইনি, নতুন করে ব্যালটে ভোট হোক’, বলছেন মোদি সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী, সমালোচনা সুপ্রিম কোর্টেরও

Continues below advertisement

অভিনেতা Farrah Fawcett-এর নামে USA 32-র নামকরণ হয়। সাত এবং আটের দশকে বিখ্যাত মানুষজনের নামে কৃত্রিম উপগ্রহের নামকরণের চল ছিল। সেটির কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন সকলে। সেই আবহেই গত ১৭ সেপ্টেম্বর আমেরিকার মহাকাশ বাহিনীর নজরদারি বিভাগ Space-Track বিষয়টি সামনে আনে। তারা জানায়, ১৩ সেপ্টেম্বর আচমকা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় USA 32. অর্থাৎ বিস্ফোরণে সেটি চুরমার হয়ে গিয়েছে। সেটির দেহাংশ, প্রায় হাজার হাজার টুকরো মহাকাশে ভাসছে। এর পর অন্য় সংস্থাগুলিও সেই খবরে সিলমোহর দেয়। বেসরকারি স্যাটেলাইট-ট্র্যাকিং সংস্থা s2a systems সেটির বৃহত্তম টুকরোটির ছবি পর্যন্ত তুলেছে।

পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৭৫ কিলোমিটার উপরে বিস্ফোরণটি ঘটে। USA 32-র যে গতি ছিল, সেই নিরিখে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ার কথা, যাতে অন্য কৃত্রিম উপগ্রহেরও বিপদ হতে পারে। আবার পৃথিবীতেও আছড়ে পড়তে পারে ধ্বংসাবশেষ। কী করে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, অন্য কোনও মহাকাশযান, স্যাটেলাইটের টুকরো বা মহাজাগতিক আবর্জনার সঙ্গে ধাক্কা লেগে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে আর কোনও স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর নেই। স্যাটেলাইটের পরিবর্তে গ্রহাণু বা পাথরের টুকরোর সঙ্গে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: পিতৃতন্ত্র গুঁড়িয়ে দিতে বলায় রাহুল গাঁধীকে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ার চ্যালেঞ্জ, বিজেপি সাংসদের মন্তব্যে হতবাক হৃতিক রোশন

কেউ কেউ আবার বলছেন, বার্ধক্যজনিত কারণেও মৃত্যু ঘটতে পারে USA 32-র। ২০২১ সালে NOAA-17 স্যাটেলাইটের পরিণতির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের যুক্তি, বহু দিন ধরে মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটের ব্যাটারি এবং প্রোপেল্যান্ট ঠান্ডা-গরমে ফেটে গিয়ে থাকতে পারে সেগুলি। তবে সবেচেয় বেশি করে যে তত্ত্ব উঠে আসছে, তা হল, মহাকাশে হামলা। স্যাটেলাইট প্রতিরোধী কোনও অস্ত্র প্রয়োগ করে USA 32-কে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। আমেরিকার মহাকাশবাহিনীর সচিব ট্রয় ই মিঙ্ক অতি সম্প্রতিই মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন রাখার কথা জানান। আর তার পরই এই ঘটনা। ফেল জল্পনা বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে কিছুই জানা যায়নি। রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাহায্য়ে আসল কারণ জানা যেতে পারে। তবে তাতে বেশ কিছু বছর সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ২০২৪ সালে বোয়িংয়ের তৈরি Intelsat 33e স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণ জানা যায়নি আজ পর্যন্ত।

তবে এই ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ পৃথিবীর কক্ষপথের নিম্নভাগে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। সেখানে ২০০-র বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে। সেগুলিও বিপদের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা।