এবার চারধাম যাত্রায় পুণ্যার্থীদের জন্য নয়া নির্দেশিকা জারি হল। চলতি বছর থেকেই তা কার্যকর হচ্ছে। এই বছর থেকেই উত্তরাখণ্ডের চারধাম তীর্থযাত্রার মন্দির চত্বরে মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।
উত্তরাখণ্ডের চারধাম মন্দিরে (গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ) এই বছর থেকে মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যার মূল উদ্দেশ্য-ভক্তদের নির্বিঘ্নে দর্শন নিশ্চিত করা এবং মন্দিরের পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় রাখা। যেখানে ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশের আগে তাঁদের ডিভাইস জমা দিতে হবে এবং পরে তা সংগ্রহ করতে পারবেন।
এদিকে এই বিষয়টি নিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট জেলার বিভাগীয় কর্তাদের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হয়। তার পরই গাড়োয়াল কমিশনার বিনয় শঙ্কর পান্ডে সাংবাদিকদের বলেন যে, 'মন্দির চত্বরে মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশের ফলে দর্শনে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। ছবি তোলার কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিলস বা ব্লগ তৈরির জেরে দর্শনার্থীদের ভিড় ও অসুবিধা এড়াতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।' এই বিষয়টি মাথায় রেখে মন্দির প্রাঙ্গণে মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বদ্রীনাথ কেদারনাথ মন্দির কমিটিকে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরার সুরক্ষার জন্য পৃথক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে কমিশনারের কথায়, গত তীর্থযাত্রার মরশুমে ৫০ লক্ষেরও বেশি ভক্ত রাজ্যের চারধাম-গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারনাথ এবং বদ্রীনাথ পরিদর্শন করেছিলেন। এই বছর তীর্থযাত্রা আরও মসৃণ এবং সহজ করার চেষ্টা করা হবে। এই খবর চাউর হতেই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে গাড়োয়াল কমিশনার বিনয় শঙ্কর পান্ডের বক্তব্য, রাজ্যের চারধাম যাত্রা একটি পবিত্র তীর্থস্থান। যেখানে মানুষ ভক্তি সহকারে আসে। তিনি বলেছেন, 'ভক্তদের মন্দিরে প্রবেশের আগে তাঁদের মোবাইল ফোন এবং ক্যামেরা জমা দিতে হবে এবং মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার পরে তাঁরা মন্দিরের বাইরে তাঁদের ছবি এবং ভিডিও তুলতে পারবেন।' ভক্তদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নির্দিষ্ট লকারে জমা দিতে হবে। মন্দিরগুলি ভক্তি ও শান্তির স্থান। যেখানে মোবাইল ফোনের রিংটোন ও ছবি তোলার জেরে ভক্তদের মনোযোগ নষ্ট করে। বদ্রীনাথ এবং কেদারনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে ছবি তোলার জেরে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।