কলকাতা:শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে হত্যা করার কারণে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার ৩ জন। তাদের আদালতে পেশ করা হয়। আপাতত রাজ্য পুলিশের হেফাজতেই রয়েছরে সেই ৩ জন। কিন্তু, এবার সেই মামলা রাজ্য পুলিশের সিটের কাছ থেকে গেল CBI -এর কাছে। রাজ্য সরকারই CBI-কে এই তদন্তভার নিজেদের হতে তুলে নেওয়ার আবেদন করে। তারপর রাজ্যের আবেদন মেনেই এই মামলার তদন্তভার নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে সিবিআই।
সূত্রের খবর, এই অপরাধ চক্রের জল ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক রাজ্য জুড়ে। এ ছাড়াও ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিরাও ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক রাজ্যে। আর সেই কারণেই রাজ্য পুলিশের অন্যান্য রাজ্যে গিয়ে তদন্ত করার তুলনায় সেই একই কাজ অনেক দ্রুত করতে পারবে সিবিআই।
চন্দ্রনাথ রথকে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। ফাসট্যাগের সূত্র ধরেই বিহার ও উত্তর প্রদেশে যায় রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। আর সেখান থেকে গ্রেফতার করে মোট ৩ জনকে। পুলিশ তদন্তে নেমে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে, পুরো ঘটনার পিছনে একটা বড় র্যাকেট রয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশ মনে করছে, এই ধরনের কাজ একাধিক লেয়ারে হয়। অর্থাৎ, সুপারি প্রথমে একজন নেয়। তারপর সে আর একজনকে সেই সুপারি দেয়। সে আবার অন্যজনকে।
আরও পড়ুন: আর জি কর মামলা থেকে সরে দাঁড়াল বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ
পুলিশ মনে করছে বিরাট পরিকল্পনা ও প্রচুর টাকা খরচ করে এই খুন করা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা মনে করছেন, প্রায় কোটি টাকার সুপারি নিয়ে এই কাজ করেছে সুপারি কিলাররা। এ ছাড়াও গাড়ি থেকে অস্ত্র, সব দিলেই দেখা গিয়েছে পরিকল্পনার অংশ হিসাবে।
যেমন এই খুনে ব্যবহার করা হয়েছে গ্লক পিস্তল। গ্লক পিস্তল তৈরি হয় অস্ট্রিয়ায়। আর এই পিস্তল ব্যবহার করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অত্যন্ত প্রশিক্ষিত বাহিনী। আর এই পিস্তল কীভাবে এই ধরনের অপরাধীর হাতে এল, সেটা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।
সিবিআইয়ের ডিআইজি পঙ্কজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি দল তৈরি করা হয়েছে। যারা এই চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্ত করবে। তাঁর সঙ্গে যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের কারও পোস্টিং দিল্লি, কারও ধানবাদ আবার কারও পাটনায়, কারও রাঁচি আবার কারও লখনউ।
কৌশলগত ভাবেই এই দলটিকে তৈরি করা হয়েছে। এখানে দিল্লি ছাড়াও ধানবাদ, পাটনা, রাঁচি ও লখনউয়ের আধিকারিকদের রয়েছে। যে জায়গায় এই চক্র চড়িয়ে রয়েছে, সেখানের আধিকারিকদেরই বেছে নেওয়া হয়েছে।
