নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রেখেছে ভারত। সেই আবহেই পাকিস্তানে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজে আরও গতি আনার ঘোষণা করল চিন। ২০১৯ সাল থেকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে মহম্মদ হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টে কাজ করছে চিনের রাষ্ট্রীয় সংস্থা China Energy Engineering Corporation. ২০২৬ সাল নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা আরও এগিয়ে আনা হচ্ছে। (China-Pakistan Relations)

চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম CCTV জানিয়েছে, কংক্রিট দিয়ে বাঁধ ভর্তি করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করাই লক্ষ্য। ভারতের সঙ্গে সংঘাতের আবহেই চিন সফরে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী তথা দেশের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দর। তাই বাঁধ নির্মাণের কাজ আরও দ্রুত শেষ করার ঘোষণা নেহাত কাকতালীয় নয় বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। (Indus Waters Treaty)

খাইবার পাখতুনখোয়ার মহম্মদ হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্ট আসলে একটি বহুমুখী প্রকল্প। সেখানে ৮০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম প্রকল্পও গড়ে উঠছে। ওই বাঁধ থেকে দিনে ৩০০ মিলিয়ন গ্য়ালন পানীয় জল সরবরাহ করা হবে পেশোয়ারে। পাশাপাশি, সেচকার্য ও বন্যা নিয়ন্ত্রণেও ওই বাঁধকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তির আওতায় সিন্ধু, ঝিলম এবং চন্দ্রভাগা নদীর জল ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে পাকিস্তানের। ভারত ইরাবতী, শতদ্রু ও বিপাশার জল ব্যবহার করতে পারে। এই নদীগুলির উপরই পাকিস্তানের পানীয় জলের জোগান ও সেচকার্য ৮০ শতাংশ নির্ভরশীল। ভারত সেই চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা করলে গোড়াতেই পাকিস্তান আপত্তি জানায়। এক তরফা ভাবে ভারত চুক্তি স্থগিত করতে পারে না বলে আন্তর্জাতিক কার্যকারণও তুলে ধরে তারা। এমনকি ইসলামাবাদ থেকে দিল্লিতে চিঠিও এসে পৌঁছেছে। সেই আবহে ঝুঁকি এড়াতেই খাইবার পাখতুনখোয়ার বাঁধের কাজে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।

গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হামলা চালায় পাক পদতপুষ্ট জঙ্গিরা। ২২ জন নিরীহ মানুষকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে তারা। তার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ বাড়তে থাকে। পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি প্রথমেই স্থগিত রাখে দিল্লি। এর পর পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পর পর বেশ কয়েকটি জঙ্গিঘাঁটিও গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। পাল্টা আঘাত হানতে ভারতের আকাশে প্রবেশ করে পাক ড্রোন, যার কড়া জবাব দেয় ভারত। 

উত্তেজনা যখন চরমে, সেই সময়ই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তাঁদের হস্তক্ষেপে ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কায়েম থাকলেও, সংঘাতে ইতি পড়েনি। সেই সঙ্গে পাকিস্তান ও চিনের ঘনিষ্ঠতার দিকেও নজর রেখেছে দিল্লি।