কলকাতা: ভারতীয় জলসীমার মধ্যে ঢুকে পড়ায় একটি পাকিস্তানি মাছ ধরার নৌকা আটক করেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। ‘আল-মদিনা’ নামে ওই নৌকায় ন’জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ নৌকাটিকে পোরবন্দরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
আরব সাগরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ফের একবার ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সতর্কতা ও দক্ষতার প্রমাণ মিলল। গত ১৪ জানুয়ারি রাতে একটি দ্রুত ও নিখুঁত অভিযানে পাকিস্তানি মাছ ধরার নৌকা ‘আল-মাদিনা’-কে ভারতীয় জলসীমায় আটক করা হয়েছে। নৌকায় ছিলেন ৯ জন পাকিস্তানি ক্রু সদস্য। চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা পাকিস্তানের দিকে পালানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোস্ট গার্ডের জাহাজ তাদের তাড়া করে আটক করে এবং ভারতীয় জলসীমায়ই বোর্ডিং করে।
গুজরাট ডিফেন্স প্রো উইং কমান্ডার অভিষেক কুমার তিওয়ারি এক্স-এ পোস্ট করে জানিয়েছেন, “রাতের অন্ধকারে প্যাট্রোলিং করতে করতে আরব সাগরে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা রেখা (IMBL)-এর কাছে ভারতীয় জলসীমায় একটি পাকিস্তানি মাছ ধরার নৌকা দেখা যায়। চ্যালেঞ্জ করতেই নৌকাটি পাকিস্তানের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আইসিজি জাহাজ দ্রুত তাড়া করে আটক করে এবং বোর্ড করে।
এই ঘটনা ভারতীয় সমুদ্রসীমার নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের অবিরাম সতর্কতার উদাহরণ। গুজরাট উপকূলের কাছে এমন ঘটনা নতুন নয়। ছোট মাছ ধরার নৌকাগুলো প্রায়ই নেভিগেশনের অভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সীমানা পেরিয়ে যায়।
পাকিস্তানি মাছ ধরার নৌকা ভারতীয় জলসীমায় ঢোকার ঘটনা বছরের পর বছর ঘটছে। ২০২৫-এর ডিসেম্বরে আরেকটি পাকিস্তানি নৌকা ১১ জন ক্রু নিয়ে আটক হয়েছিল। ২০২৩-এর নভেম্বরে ‘নাজ-রে-করম’ নামে আরেকটি নৌকা ১৩ জন ক্রু নিয়ে ধরা পড়ে। এসব ঘটনায় দেখা যায়, অনেক সময় মাছ ধরার অজুহাতে সীমান্ত লঙ্ঘন হয়, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এর পিছনে অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে যেমন গুপ্তচরবৃত্তি বা মাদক চোরাচালান। ২০১৯-এ ‘আল-মাদিনা’ নামেরই একটি নৌকা থেকে ১০০ কেজি হিরোইন উদ্ধার হয়েছিল, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ছিল ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। তাই এবারের আটকের পর তদন্ত আরও গভীর হবে।