নয়াদিল্লি: বিদেশে দৌত্যে গিয়েও Operation Sindoor-এর প্রসঙ্গ উঠছে যেমন, দেশের অন্দরে নির্বাচনী প্রচারে শোনা যাচ্ছে ‘ঘরে ঢুক পাকিস্তানকে মেরে আসার’ কথা। সামরিক অভিযান সংক্রান্ত তথ্য়াদি এযাবৎ গোপন রাখলেও, এবার UPA জমানার কৃতিত্ব তুলে ধরল কংগ্রেস। তাদের দাবি, UPA আমলে ছ’-ছ’বার সার্জিক্য়াল স্ট্রাইক চালানো হয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেনার কৃতিত্বে ভাগ বসাতে বা তা নিয়ে নাম কিনতে যায়নি তদানীন্তন সরকার।
উরি থেকে পুলওয়ামা এবং সাম্প্রতিক পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানর বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান চালানো হয়, তার খুঁটিনাটি তথ্য় দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হয়। নির্বাচনের মুখে সেই নিয়ে প্রচারও চালানো হয় বিস্তর। গোড়া থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল কংগ্রেস। তাদের দাবি ছিল, ২০১৪ সালে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির সরকার গঠিত হওয়ার আগেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেনার অভিযান সংক্রান্ত তথ্য় অত্যন্ত স্পর্শকাতর, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে। সেকথা মাথায় রেখেই তথ্য় গোপন রাখা হয়েছিল। তাদের সরকার সেনার কৃতিত্ব নিয়ে রাজনীতি করতে চায়নি।
কিন্তু Operation Sindoor নিয়ে নতুন করে বিজেপি-র তরফে প্রচার শুরু হতেই কংগ্রেস UPA জমানার সামরিক অভিযানের রেকর্ড তুলে ধরল। কংগ্রেস জানিয়েছে, কেন্দ্রে UPA সরকার থাকাকালীন, ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মোট ছ’বার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়। ১) ২০০৮ সালের ১৯ জুন প্রথম বার ভট্টল সেক্টরে, ২) ২০১১ সালের ৩০ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শারদা সেক্টর, নীলম নদীর ওপারে কেলে, ৩) ২০১৩ সালের ৬ জানুয়ারি সাবন পাত্রা চেকপোস্টে, ৪) ২০১৩ সালের ২৭-২৮ জুলাই নাজাপীর সেক্টর, ৫) ২০১৩ সালের ৬ অগাস্ট নীলম উপত্যকা, ৬) ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি নীলম উপত্যকায় সার্জিক স্ট্রাইক চালানো হয়।
UPA জমানার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের রেকর্ড তুলে ধরে কংগ্রেস লেখে, ‘কোনও চেঁচামেচি নয়, কোনও প্রচার নয়। শুধুমাত্র সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ। কংগ্রেসের সরকার থাকাকালীন ছ’বার সার্জিক্য়াল স্ট্রাইক চালানো হয়’। কিন্তু UPA জমানায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দাবি মিথ্যে বলে দাবি করছে বিজেপি। কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে লেখে, 'কংগ্রেসের আমলে স্ট্রাইক এত গোপন রাখা হয় যে সেনাও জানতে পারেনি'। এব্যাপারে ২০১৮ সালের একটি RTI উত্তরও তুলে ধরে তারা, যেখানে ২০১৬ সালের আগে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক রেকর্ড নেই বলে জানানো হয়।
তবে এই বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সার্জিক্য়াল স্ট্রাইক নিয়ে মুখ খোলেন রাহুল গাঁধী। তিনি জানান, কেন্দ্রে তাঁদের সরকার থাকাকালীন ভারতীয় সেনা পাক অধিকৃত কাশ্মীরে তিনবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায়। কংগ্রেসের রণদীপ সুরজেওয়ালা সেবছর জুন মাসে জানান, UPA জমানায় সবমিলিয়ে ছ'বার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়। ২০১৯ সালের মে মাসে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ জানান, তাঁর সরকারের আমলে একাধিক সার্জিক্য়াল স্ট্রাইক চালানো হয়, কিন্তু ভোটবাক্সের জন্য কখনও তা ব্যবহার করায় বিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। এই মুহূর্তে Operation Sindoor নিয়ে বিদেশে দেশের হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। ২০১৮ সালে নিজের বই 'The Paradoxical Prime Minister'-এ তিনিও UPA জমানার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা লিখেছেন বলে তুলে ধরছে কংগ্রেস। তারা জানিয়েছে, বিজেপি নির্লজ্জ ভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে নির্বাচনের স্বার্থে ব্যবহার করছে বলে বইয়ে লেখেন তারুর। তবে এই মুহূর্তে বিদেশে যে বক্তৃতা করছেন তারুর, তা একবারে উল্টো, যা নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষও তৈরি হয়েছে।
এর আগে, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডিএস হুডাও অতীতে সামরিক অভিযান চালানো হয় বলে মেনেছিলেন। ২০১৬ সালে উরি হামলার পর যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়, তাতেও শামিল ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডিএস হুডা। ২০১৯ সালে ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "অনেকেই বলেছেন, প্রাক্তন সেনা আধিকারিকরাও আগে একথা জানিয়েছেন। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা সীমান্ত পেরিয়ে সামরিক অভিযান আগেও চালানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা জায়গার কথা আমার জানা নেই। সেনাকে নির্বাচনের মাঠে টেনে আনা উচিত নয়, এতে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি হবে।"