নয়াদিল্লি: ভারত ও পাকিস্তানকে নিয়ে ফের বড় দাবি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাঁর দাবি, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তাঁরাই মধ্যস্থতা করেছেন। আমেরিকা যদি হস্তক্ষেপ না করত, সেক্ষেত্রে সংঘাত পরমাণু যুদ্ধ হতে পারত। বিগত কিছু দিন ধরে লাগাতার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। ভারতের তরফে যদিও একাধিকবার সেই দাবি খণ্ডন করা হয়েছে। তার পরও নিজের অবস্থান থেকে সরছেন না ট্রাম্প। (India-Pakistan Conflict)
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে ভারত ও পাকিস্তানকে নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প। সেই সময় ওভাল অফিসে ট্রাম্পের পাশে ছিলেন তাঁর উপদেষ্টা, ধনকুবের ইলন মাস্কও। আর সেখানেই ট্রাম্প বলেন, "ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আমরাই লড়াই থামাই। আমার বিশ্বাস, ওই লড়াই পরমাণু বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারত।" যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার জন্য় ভারত ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রনেতা, দুই দেশের সরকারকেও ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তাঁরাও সংঘাত থিতিয়ে আনতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেন বলে জানান। (Donald Trump)
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়, দুই দেশের সরকারের তরফে সেই ঘোষণা হয়নি প্রথম। বরং ট্রাম্পই প্রথম যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। জানান, আমেরিকা মধ্য়স্থতা করে দুই দেশকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছেন। সেই থেকে বার বার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য়ে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করেছেন ট্রাম্প। ব্যবসা-বাণিজ্যর 'জুজু' দেখাতেই দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে যায় বলেও দাবি করেন। এমনকি একটি মামলার শুনানি চলাকালীন আমেরিকার আদালতেও সই মর্ম হলফনামা দেয় ট্রাম্প সরকার।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বসেও একই কথা বলতে শোনা যায় ট্রাম্পকে। তিনি বলেন, "পরস্পরকে লক্ষ্য় কর যারা গোলাগুলি ছুড়ছে, সম্ভবত পরমাণু অস্ত্রেরও ব্যবহার করছে, তাদের সঙ্গ ব্যবসা করতে পারি না আমরা। দুই দেশের নেতারা বিচক্ষণ, তাঁরাও পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং একমত হন...আর তাতেই যুদ্ধ বন্ধ হয়।" যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে পৌঁছতে ভারত ও পাকিস্তানের তরফে সহযোগিতা পেয়েছেন বলে মানলেও, ট্রাম্প জানান, বিশ্বের সর্বত্রই সংঘাত থামাতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আমেরিকা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছে। আমেরিকার সামরিক শক্তি এবং নেতৃত্বদানের ক্ষমতাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। বলেন, "অন্যদেরও যুদ্ধ থেকে বিরত করছি আমরা। কারণ বাকি সকলের চেয়ে ভাল লড়তে পারি আমরা। আমাদের সেনা পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আমাদের নেতারা মহান।"
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিরা ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে খুন করে, যার দরুণ নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে Operation Sindoor চালায় ভারত। পাকিস্তানের মাটিতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। Operation Sindoor-এর পর সংঘখাত চরমে পৌঁছয়। ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন। মাঝ আকাশেই তাদের আগ্রাসন ঠেকিয়ে দেয় ভারত এবং পাল্টা আঘাত হানে।
সেই পরিস্থিতিতে কার্যত প্রহর গুনতে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহল। দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত পুরোদস্তুর যুদ্ধের আকার নিলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে আশঙ্কা দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। আমেরিকার হস্তক্ষেপেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন। সেই নিয়ে পাকিস্তানের তরফে কোনও ওজর আপত্তি শোনা না গেলেও, ভারত লাগাতার জানিয়ে আসছে যে, ভারত এবং পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতিতে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই। পারস্পরিক সম্মতিতে দুই দেশই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। কিন্তু ট্রাম্প নিজের দাবি থেকে সরছেন না।