সন্দীপ সরকার ও ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা: কাফ সিরাপ খেয়ে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে ১১ শিশু মৃত্যুর অভিযোগ। কাফ সিরাপের ব্যবহার নিয়ে দেশের সব রাজ্যের জন্য অ্যাডভাইসরি জারি করল কেন্দ্র।২ বছরের নীচে শিশুদের কাফ সিরাপ না দিতে পরামর্শ। ২ বছরের ঊর্ধ্বে শিশুদের কাফ সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ। দেশের সব রাজ্য ও হাসপাতালগুলিকে সঠিক সংস্থার থেকে কাফ সিরাপ কেনার পরামর্শ কেন্দ্রের। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন কেন্দ্রের।কিডনি বিকল হয়ে শিশুমৃত্যু, সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন, 'প্রচণ্ড শক্তিশালী কেউ আমাকে পছন্দ না করলে, আমিও তাঁকে পছন্দ করি না..', উৎসবের আবহে কাকে ইঙ্গিত কুণালের ? 

মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে পরপর শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর এবার অ্যাডভাইসরি জারি করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক। শিশুদের কাফ সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে তাতে। বলা হয়েছে, ২ বছরের কম বয়সের শিশুদের কাফ সিরাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে নিম্নমানের রক্তচাপ কমানোর ওষুধ তৈরির অভিযোগে হরিদ্বারের হেল্যাক্স হেলথকেয়ার প্রাইভেট লিমিটেডকে কালো তালিকাভুক্ত করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। 

সামান্য জ্বর-সর্দি-কাশি থেকে হঠাৎ কিডনি বিকল হয়ে শিশু-মৃত্যু! কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা।গত কয়েকদিনে মধ্যপ্রদেশে ৯ জন ও রাজস্থানে ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই আবহে শুক্রবার সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য় অ্যাডভাইসরি জারি করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক। সেখানে শিশুদের কাফ সিরাপ দেওয়া নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশিকা দেওয়া হয়। কেন্দ্রের জারি করা অ্যাডভাইসরিতে বলা হয়,  শিশুদের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাশি নিজে থেকেই সেরে যায়। এই অবস্থায় ভাল করে পরীক্ষা করে, তবেই কাফ সিরাপ প্রেসক্রাইব করার কথা বলা হয়েছে চিকিৎসকদের।  সূত্রের খবর, মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায় যেখানে ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, সেখানে কাফ সিরাপগুলি সরবরাহ করেছিল জব্বলপুরের কাটারিয়া ফার্মাসিউটিক্যালস ডিস্ট্রিবিউটর। সেই সংস্থা আবার কাফ সিরাপ আনিয়েছিল চেন্নাইয়ের একটি সংস্থা থেকে।  এই ঘটনার পর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়। তবে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য়মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসাররা কাফ সিরাপে কোনও দূষিত পদার্থ পাওয়া যায়নি।

এমনকী কিডনির পক্ষে ক্ষতিকর ডাইথিলিন গ্লাইকল বা ইথিলিন গ্লাইকলও পাওয়া যায়নি।তাহলে কেন এতজন শিশুর প্রাণ গেল? শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ  অপূর্ব ঘোষ বলেছেন, টক্সিক কিছু তো আছে। যে কারণে বাচ্চাগুলো মারা গেছে। সেটা তদন্ত করে দেখতে হবে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা অ্যাডভাইসরিতে বলা হয়েছে,২ বছরের কম বয়সের শিশুকে কাফ সিরাপ দেওয়া উচিত নয়। ৫ বছরের কম শিশুদের কাফ সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সতর্ক করা হয়েছে। 

কাফ সিরাপের প্রয়োজন হলে সঠিক মাত্রায় দিতে হবে। শিশুদের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখতে হবে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ জয়দেব রায় বলেন, অভিভাবকরা বারবার এসে বলে, কাশছে একটা সিরাপ লিখে দিন...কাশি নিজে থেকেই সেরে যায়....।শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ  অপূর্ব ঘোষ বলেন, বাবা-মারা ইনসিস্ট করেন কিছু একটা দিন। বাচ্চাদের কাশি কখনও কাফ সিরাপে সারে না...। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের তরফে আরও বলা হয়েছে, প্রেসক্রিপশন ছাড়া যেন কেউ কাফ সিরাপ না কেনেন। 

অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দিকটিও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। কাফ সিরাপ খাওয়ালে সেই শিশুকে নজরদারিতে রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্য়েই আবার নিম্নমানের রক্তচাপ কমানোর ওষুধ তৈরির অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত হল একটি বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা।হরিদ্বারের হেল্যাক্স হেলথকেয়ার প্রাইভেট লিমিটেডকে কালো তালিকাভুক্ত করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। পরীক্ষার পর স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, স্ট্রিপ খোলামাত্রই ওষুধ গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে।স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, এই তথ্য দেওয়া হবে কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলে।