কলকাতা : অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে শুরু হয়েছিল ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে সাইক্লোনের তাণ্ডব। পরে কিছুটা শক্তি হারিয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় ‘অর্ণব’। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ করে  স্থলভাগে । মঙ্গলবার রাত ১.২৩ নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের মাঝ বরাবর শুরু হয় 'অর্ণবে'র ল্যান্ডফলের প্রক্রিয়া । জলভাগ পেরিয়ে স্থলে ঢোকে  ঘূর্ণিঝড়। স্থলভাগে প্রবেশের সময় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার। সব রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও এড়ানো গেল না অপ্রীতিকর ঘটনা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংক্রান্ত কারণেই প্রাণ গেল একাধিক ব্যক্তির।  ৩১ টি বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় ঝড়ের দাপটে। এছাড়াও প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায়। 

Continues below advertisement

অন্ধ্রপ্রদেশের দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন,  অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ৭১৪ টি গ্রাম ক্ষতির শিকার হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, পশ্চিম গোদাবরী জেলার ভীমাভরমে ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৬ বছরের এক ব্যক্তির। মৃতের নাম চোক্কা কিশোর কুমার। জানা গিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁর উপর গাছ ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে খবর।  একই এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এক ডেলিভারিকর্মীও। ঝোড়ো হাওয়ায় একটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে তাঁর মাথায়। গুরুতর আঘাত লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

বিশাখাপত্তনম জেলায় বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে মৃত্যু হয় ৫৩ বছরের এক ব্যক্তির। প্রবল হাওয়ায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। আনাকাপল্লি জেলাতেও একই ধরনের দুর্ঘটনায় আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।  

Continues below advertisement

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। একাধিক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে রাজ্যে। 

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে ওড়িশাতেও। সেখানকার গজপতি, গঞ্জাম, রায়গড়া, কোরাপুট, নবরংপুর, মালকানগিরি-সহ একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি। পাশাপাশি বইছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। পুরীতে জারি রয়েছে কমলা সতর্কতা।