নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার পরই, সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। আর তাতেই ভয় ধরেছে পাকিস্তানের। এর আগে এনিয়ে হুমকির সুর শোনা গেছিল পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্য়ান বিলাবল ভুট্টো (Bilawal Bhutto) জারদারির গলায়। তবে দুদিন কাটতে না কাটতেই সুর নরম তাঁর।
আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ: পহেলগাঁও-এ ২৫ জন পর্যটককে খুনের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ। এর মধ্যেও থামছে না পাক উস্কানি। পাকিস্তান পিপল্ স পার্টির চেয়ারম্যান বিলাবল ভুট্টো বলেছিলেন, "সিন্ধুু দিয়ে হয় জল বইবে, না হয় রক্ত। হামলা করলে আবার যুদ্ধের জন্য তৈরি।'' তবে পুরনো সুর বদলে এবার ভারতকে আলোচনার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাবল ভুট্টো জারদারি মঙ্গলবার বলেন, "জেদ বজায় না রেখে ভারতের খোলা মনে আলোচনায় বসা উচিত।'' পাকিস্তানের সংসদে প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বলেন, "ভারত শান্তি চাইলে, আলোচনার জন্য় দরজা খোলা রয়েছে। মনগড়া বিষয় নয়, তথ্য নিয়ে কথা বলুক তারা। প্রতিবেশী হিসেবে সত্যিকে সামনে রেখে আলোচনায় বসি আমরা।'' ভুট্টো জারদারি আরও বলেন, "চাপের মুখে পাকিস্তানিরা পিছু হটবে না। পাকিস্তানের জনগণকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয় না। আমরা সংঘাত ভালোবাসি বলে লড়ছি না, বরং আমরা স্বাধীনতা ভালোবাসি বলেই লড়ছি।''
পহেলগাঁও সন্ত্রাসে তাদের মদত স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর থেকে, এমনিতেই ভারতের প্রত্যাঘাতের প্রহর গুনছে আতঙ্কিত পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর কড়া বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার পর জলে-স্থলে- অন্তরীক্ষে মহড়া আরও জোরদার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্য়ুর পর সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে মোদি সরকার। পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিকাজই সিন্ধুর জলের উপর নির্ভরশীল। করাচি, লাহৌর, মুলতানে বস্ত্র, চিনি।উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো সরাসরি সিন্ধুর জল ব্যবহার করে। ভারত জলচুক্তি স্থগিত করতেই, পাকিস্তানের মাথায় হাত পড়েছে। শুরু হয়েছে ফাঁপা হুমকি, হুঁশিয়ারি। বিলাবল ভুট্টো জারদারির পাশাপাশি এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বলেন, "কেউ যদি (সিন্ধুতে) এইরকম নির্মাণ কাজ করে, আমরা সেই নির্মাণ কাজ ধ্বংস করে দেব। এটা (নির্মাণ কাজ) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পদক্ষেপ। আগ্রাসন শুধু গোলাবর্ষণ করেই হয় না। আগ্রাসনের অনেক পদ্ধতি হয়, এটাও একটা খুব বড় পদক্ষেপ। এতে ওরা (পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ) খিদে, তেষ্টায় মারা যেতে পারে। ওরা (ভারত) যদি এইরকম কোনও নির্মাণ কাজ শুরু করে, পাকিস্তান তা ধ্বংস করে দেবে।''