বিস্ফোরণ।  মৃত্যুমিছিল।  হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও অনেকে। যাঁরা প্রাণে বেঁচেছেন তাঁদের সঙ্গী হয়েছে ভয়াবহ স্মৃতি। এক সন্ধেয় যাঁদের ঘর উজাড় হয়ে গেছে, তাঁদের পরিস্থিতি শোচনীয়।  কারও দেহ আস্ত নেই। কেউ প্রিয়জনের দেহাবশেষ চিনে নিচ্ছে ট্যাটু দেখে, কেউ ছেঁড়া জামার টুকরো দেখে। ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া  প্রিয়জনদের শরীর শনাক্ত করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।  লোক নায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালের করিডোরে এখন কান্নার রোল। ভয়ঙ্করতম প্রতীক্ষা। একটি ট্যাটু, ছেঁড়া হাতা, অথবা নীল শার্টের একটা হাতা। এক-একটি চিহ্নে আঁতকে উঠছে কেউ । শেষ হয়ে যাচ্ছে শেষ আশা। 

Continues below advertisement

চাঁদনী চকের  ওষুধ ব্যবসায়ী ৩৪ বছর বয়সী অমর কাটারিয়া। তার দেহ এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে কিছুতেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু পুড়ে খাক অঙ্গের মধ্যেই ফিক হয়ে টিকে আছে মা ও স্ত্রীর নাম লেখা সেই ট্যাটু।   

 ৩৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ জুম্মন। রিকশা চালাতেন। সোমবার রাত ৯টার পর থেকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি তাঁকে। থানা থেকে একটি ফোন পেয়ে এসে  জুম্মনকে তার নীল শার্ট এবং জ্যাকেট দেখে শনাক্ত করে বন্ধু ইদ্রিস।  জুম্মনই তার পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি ছিল। স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সবার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

Continues below advertisement

ক্যাব চালক পঙ্কজকে তার পরিবার খুঁজে পায় পোশাক দেখে। ঘটনাস্থলের কাছে পাঙ্কটের গাড়িটি পাওয়া গেছে এবং সেটিও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত।   উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের বাসিন্দা বছর ৭২-এর শেহনাজ। একটুকরো কাগজ হাতে ঘুরছেন লোকনায়ক হাসপাতালের বাইরে। বোনের বড়ছেলে কিডনির অসুখে আক্রান্ত। ১৯ বছরের ছোট ছেলে কলেজে পড়ত। সোমবার সন্ধেয় দিল্লি AIIMS-এ এসেছিল দাদার ওষুধ কিনতে। অসহায় পরিবার শুধু এটুকু জানে, যে ছেলে ছিল যাবতীয় আশা-ভরসা, সোমবার সন্ধের বিস্ফোরণ তাঁকে চিরতরে কেড়ে নিয়েছে।   

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে একশো-দেড়শ মিটার দূরে দিগম্বর জৈন মন্দির, গৌরীশঙ্কর মন্দিরের ভিতরে উড়ে আসে দেহাংশ। বিস্ফোরণ স্থল থেকে ১০০ মিটার থেকে দেড়শ মিটার ভিতরে রয়েছে এই দিগম্বর জৈন মন্দির। তার পিছনে গৌরিশঙ্কর মন্দির রয়েছে। এবং এই মন্দিরগুলোতেও দেহাংশগুলো উড়ে আসে । কিছু দেহাংশআবার গাছের উপর আটকে যায়। মন্দিরের জানালাগুলো ভেঙে যায়।  লালকেল্লার পাশেই চাঁদনি চক মার্কেট এরিয়া। সোমবারও যা জমজমাট ছিল। পরদিন তা শুনশান। কী থেকে যে কী হয়ে গেল! এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই।