Delhi Police: নাশকতার ছক বানচাল, রাজ্যের ২ জন-সহ দিল্লি পুলিশের জালে ৮। পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার ২, তামিলনাড়ুতে পাকড়াও ৬। ধৃতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি, জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। 'তামিলনাড়ু থেকে ধৃতরা জাল আধার কার্ড ব্য়বহার করেছিল। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের সমর্থনে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট ধৃতদের। ISI ও বাংলাদেশি জঙ্গিদের সহায়তায় বড় নাশকতার ছক ছিল। উদ্ধার ৮টি মোবাইল ফোন, ১৬টি সিম কার্ড', জানিয়েছ দিল্লি পুলিশ। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার যোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে দিল্লি পুলিশের তরফে।
দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই ৬ সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করেছে। তারা হল মিজানুর রহমান, মহম্মদ শাবাত, উমর, মহম্মদ লিটন, মহম্মদ শাহিদ এবং মহম্মদ উজ্জ্বল। তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলার একটি পোশাক তৈরির কারখানা থেকে এই ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ যে ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে সূত্র মারফত। জাল আধার কার্ড ব্যবহার করেছিল অভিযুক্তরা। পরিচয়পত্রের জন্য এই ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনদের থেকে বেশ অনেকগুলি মোবাইল এবং ১৬টি সিমকার্ড উদ্ধার করেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে সন্দেহভাজনের গ্রেফতার করেছিল তামিলনাড়ু পুলিশ। পরে তাদের তুলে দেওয়া হয় দিল্লি পুলিশের হাতে।
গত ৭-৮ ফেব্রুয়ারিতে 'কাশ্মীরকে মুক্ত করুন', 'কাশ্মীরে গণহত্যা বন্ধ করুন' - এইসব স্লোগান দেওয়া পোস্টার দেখা গিয়েছিল দিল্লি এবং কলকাতার মেট্রো স্টেশনের কাছে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাকে সচেতন করা হয়। এরপর দিল্লি পুলিশের বিশেষ ভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত এগনোর সঙ্গে সঙ্গে ২ সন্দেহভাজনকে মালদা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের নাম উমর ফারুখ এবং রবিল উল ইসলাম। তাদের মোবাইলে পাওয়া বেশ কিছু তথ্য থেকে পুলিশ বুঝতে পারে বাকি সন্দেহভাজনরা তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলায় রয়েছে। এরপর তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুর জেলার তিনটি জায়গা থেকে মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করে একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করত এই সন্দেহভাজনরা।
দিল্লি পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে পুরো নাশকতার ছক পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বাংলাদেশ থেকে। শাব্বির আহমেদ নামের এক হ্যান্ডলার এই সন্দেহভাজনদের আদেশ দিত। সূত্রের খবর ২০০৭ সালে শাব্বির গ্রেফতার হয়েছিল ভারতে আত্মঘাতী হামলার ছক করার জন্য। জেলও হয় তার। জেল থেকে বেরনোর পর ভারত ছেড়ে চলে যায় শাব্বির এবং যোগ দেয় লস্কর-ই-তৈবা, এই জঙ্গি সংগঠনে। বাংলাদেশেই ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল শাব্বির। ক্রমাগত যোগাযোগ ছিল পাকিস্তানের সঙ্গেও। দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল সূত্রে খবর শাব্বির আহমেদ ছাড়াও সইদুল ইসলাম নামের আরেক বাংলাদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনদের। তবে এই সইদুল এখন বাংলাদেশে নয়, অন্য কোনও দেশে রয়েছে বলে অনুমান পুলিশের।
ধৃতদের মোবাইল থেকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছবি, ভিডিও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এমনকি এমন কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছে যেখানে অস্ত্র কেনাবেচার কথা রয়েছে। এর থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, ভারতে বড়সড় হামলার ছক কষা হচ্ছিল।