নয়াদিল্লি: রাজধানীতে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য। নতুন একটি ছবি সামনে এসেছে, যাতে বিস্ফোরণ ঘটা Hyundai i20 গাড়িটিতে চালকের আসনে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে একজনকে। ছবিতে দেখা গিয়েছে, মুখে মাস্ক রয়েছে গাড়ির চালকের। গাড়ির জানলা দিয়ে একটি হাত বাইরে ঝুলিয়ে রেখেছেন তিনি। দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে ওই ব্যক্তিকে। (Delhi Red Fort Blast)

Continues below advertisement

গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তে নেমে এলাকার ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। যে সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির ড্রাইভারকে দেখা গিয়েছে, সেটি একটি পার্কিং লটের বলে জানা যাচ্ছে। চালকের আসনে বসে থাকা ওই ব্যক্তিকে মহম্মদ উমর বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ফরিদাবাদ টেরর মডিউলের অন্যতম হোতা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে তাঁকে। (Delhi Bomb Blast News)

পেশায় চিকিৎসক উমরই গাড়িটি চালিয়ে নিয়ে যান এবং দুই সহযোগীর সঙ্গে মিলে তিনিই হামলার পরিকল্পনা করেন বলে সূত্রের খবর। জানা যাচ্ছে, সোমবার ফরিদাবাদ থেকে দু'জন গ্রেফতার হওয়ার পর, ভয়ে তড়িঘড়ি বিস্ফোরণ ঘটানো হয় লালকেল্লার কাছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সহযোগীদের সঙ্গে মিলে গাড়িতে ডিটোনেটর রাখেন উমরই। বিস্ফোরণ ঘটাতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ভেবেচিন্তেই ভিড় জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছিল বলেও মনে করা হচ্ছে।

Continues below advertisement

পাশাপাশি, লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নং গেটের কাছে, সিগনালে ওই গাড়িটিকে ধীর গতিতে এগোতে দেখা যায় সন্ধে ৬টা বেজে ৫০ মিনিট নাগাদ। সেই সময় গাড়িতে একা ওই ব্যক্তি ছিলেন বলেই দাবি পুলিশ সূত্রে। তাহলে কি পরিকল্পিত ভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে দিল্লিতে? দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা কি আসলে আত্মঘাতী হামলা? উঠছে প্রশ্ন। 

সংবাদ সংস্থা ANI জানিয়েছে, পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে, যাতে পার্কিং এলাকায় গাড়িটিকে ঢুকতে ও বেরোতে দেখা গিয়েছে। তথ্যপ্রমাণ বলছে, বিস্ফোরণের সময় গাড়িতে একাই ছিলেন ওই ব্যক্তি। ১০০-র বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ, যার মধ্যে রয়েছে এলাকার টোল প্লাজাও। গাড়িটির রুট নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে দরিয়াগঞ্জের দিকে গাড়িটির গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করছে পুলিশ।

বিস্ফোরণের আগে গাড়িটি কোথায় ছিল, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানা গিয়েছে, দরিয়াগঞ্জ মার্কেট এলাকা হয়ে বিকেল ৪টে নাগাদ সুনেহরি মসজিদের কাছে পৌঁছয় গাড়িটি। অর্থাৎ দুর্ঘটনার তিন ঘণ্টা আগে সেখানে পৌঁছয়। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ছটা রেল চক থেকে ইউটার্ন নিয়ে লোয়ার সুভাষ মার্গের দিকে এগোয়। সিগনালের কাছে ধীরগতিতে এগোচ্ছিল গাড়িটি। আর তার পরই বিস্ফোরণ ঘটে।

সোমবার সন্ধেয় রাজধানীর বুকে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। যে Hyundai i20 গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে, সেটির নম্বর প্লেটটি হরিয়ানার, HR26CE7674. বিস্ফোরণের তীব্রতা এত ছিল যে, চারপাশ কেঁপে ওঠে। আরও বেশ কিছু গাড়ি, বাইক টুকরো টুকরো হয়ে যায়। কেঁপে ওঠে বাড়িঘরের জানলার কাচ। সন্ধে ৭টা নাগাদ যখন বিস্ফোরণ ঘটে লালকেল্লার আশেপাশে প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। আতঙ্কে অদিক ওদিক ছুটতে শুরু করেন সকলে।