নয়াদিল্লি: পাইলটদের যথেষ্ট বিশ্রাম হচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে ক্লান্তি দেখা দিচ্ছে। হচ্ছে না সঠিক প্রশিক্ষণও। আমদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়াকে সতর্ক করল ভারতের বেসামরিক পরিবহণ সংস্থা। পদক্ষেপ না করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হল। এয়ার ইন্ডিয়াকে পাঠানো কেন্দ্রের সেই নোটিস সামনে আনল সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। (DGCA Notice to Air India)
চলতি বছরের ১২ জুন গুজরাতের আমদাবাদে ভেঙে পড়ে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। এর পর গত ২৩ জুলাই এয়ার ইন্ডিয়াকে নোটিস পাঠায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ সংস্থা। কমপক্ষে চারটি নোটিস পাঠানো হয় এয়ার ইন্ডিয়াকে। তাতে এয়ার ইন্ডিয়ার তীব্র সমালোচনা করা হয়। বার বার নিরাপত্তাজনিত বিধি লঙ্ঘনের জন্য ভর্ৎসনা করা এয়ার ইন্ডিয়াকে। আগে এ নিয়ে সতর্ক করা সত্ত্বেও সমাধান হয়নি বলে জানানো হয়। শুধু তাই নয়, জরিমানা-সহ এগজিকিউটিভদের অপসারণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় নোটিসে। (Air India News)
নোটিসে ২৯টি নিয়ম লঙ্ঘনের কথা বলা হয়, যার মধ্যে পাইলটদের যথেষ্ট বিশ্রাম হচ্ছে না বলেও জানানো হয়। পাইলটদের যথেষ্ট বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি, সকলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয় নোটিসে। তুলনামূলক বেশি উঁচুতে অবস্থিত বিমানবন্দরগুলিতে, আন্তর্জাতিক রুটে বিমান ওড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে বলে এয়ার ইন্ডিয়াকে জানানো হয়। বিমানকর্মীর সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলেও জানায় কেন্দ্র। একটি নোটিসে বলা হয়েছে, বার বার সতর্ক করা সত্ত্বেও বার বার নিয়ম লঙ্ঘন চোখে পড়েছে। একাধিক সমস্যার সমাধান হয়নি এখনও।
এয়ার ইন্ডিয়ার দাবি, গত বছর তারা নিজেরাই কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছিল। সেই নিরিখেই নোটিস এসেছে। নোটিসের জবাবও দেওয়া হবে। এয়ার ইন্ডিয়া আরও বলে, “বিমানকর্মী এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা।” এ নিয়ে কেন্দ্রের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহণ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মহল বৃহস্পতিবার লোকসভায় জানান, Airbus A320 বিমানের ইঞ্জিন ইনস্টল করার ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করে এয়ার ইন্ডিয়া। এতে বিমান সংস্থার মেনটেনান্স ম্যানেজারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়। সতর্কবার্তা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়, জরিমানা করা হয় ১.৫ লক্ষ টাকা। ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজারকে ৩০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
আমদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়াকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। তদন্তের যে প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে এসেছে, জ্বালানি নিয়ন্ত্রণের যে সুইচ, তা উড়ানের সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যায়, যা নিয়ে পাইলটদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরবর্তীতে রয়টার্সের একটি রিপোর্টে জানানো হয়, Airbus A320 ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ সময় মতো পাল্টানো হয়নি। এর পর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের উড়ান সংস্থা জানায়, এয়ার ইন্ডিয়ার বাজেট পরিষেবা খতিয়ে দেখা হবে। শুধু তাই নয়, মে মাসের রিপোর্টে দেখা যায়, এয়ারবাসের তিনটি বিমানের এমার্জেন্সি ইকুইপমেন্ট ঠিক সময়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে এয়ার ইন্ডিয়ার পরিষেবা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।