ওয়াশিংটন ডিসি : ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েল বাহিনীর সংঘর্ষের আজ চতুর্থ দিন। ইতিমধ্যেই বহু প্রাণহানির খবর সামনে এসেছে। শনিবার ইরানের ওপর যৌথ অভিযান চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। যে যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। পাল্টা জবাবের পথে হেঁটেছে তেহরান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত, কাতার, বাহারিন, জর্ডনের মতো গল্ফের যে দেশগুলিতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেখানে সেখানে আঘাত হেনেছে ইরান। আর এর জেরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে। যার প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতিতেও। এই পরিস্থিতিতে, দ্রুত সংঘর্ষের সমাপ্তির মুখাপেক্ষী সকলেই। কিন্তু, কবে থামবে এই সংঘর্ষ ? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংষর্ঘ স্থায়ী হতে পারে "কয়েক সপ্তাহব্যাপী।" নিউইয়র্ক টাইমসকে টেলিফোনে ইন্টারভিউ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আমেরিকা ও ইজরায়েল কতদিন অপারেশন চালাতে পারে ? ট্রাম্প বলেন, "আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চেয়েছিলাম।" ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও বলেন, এই দ্বন্দ্ব "অন্ততকাল যুদ্ধ হবে না"। তাঁর কথায়, "আমরা কয়েক সপ্তাহের প্রস্তুতি নিয়েছি।"
ইরানের সঙ্গে আমরিকা-ইজরায়েলের সংঘর্ষ নিয়ে ভারতের অবস্থান গতকাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন বিবৃতি জারি করেছেন ভারতের বিদেশ-মন্ত্রকের মুখপাত্র। তাতে বলা হয়েছে, ভারত দৃঢ়ভাবে আলোচনা এবং কূটনীতির আহ্বান পুনরায় জানাচ্ছে। আমরা সংঘাতের দ্রুত অবসানের পক্ষে স্পষ্টভাবে আমাদের আওয়াজ তুলছি। ইতিমধ্যেই, দুঃখজনকভাবে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে এবং আমরা এই বিষয়ে শোকপ্রকাশ করছি... গল্ফ অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন এবং কাজ করেন। তাঁদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। আমাদের বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ চেইন এই এলাকা জুড়ে। যে কোনও বড় ধরনের ব্যাঘাত ভারতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে। ভারত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপর আক্রমণেরও দৃঢ় বিরোধিতা করে। ইতিমধ্যেই, গত কয়েকদিনে এই ধরনের হামলার ফলে কিছু ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন... দুর্ভাগ্যবশত, পবিত্র রমজান মাসে, এই অঞ্চলের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্যভাবে এবং ক্রমাগত অবনতি হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘর্ষের আবহে বিভিন্ন দেশে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আটকে পড়েছেন বহু বিদেশি নাগরিক। অনেক ভারতীয়ও আটকে পড়েছেন সেইসব দেশে।
